বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে মাঠের লড়াইয়ের দারুণ প্রস্তুতি সেরেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের সেই দাপুটে জয় ছাপিয়ে এখন ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের সাথে লিওনেল মেসির এক অদ্ভুত ও নাটকীয় সাক্ষাৎ!
মাঠের রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর দুই দলের ফুটবলাররা যখন প্রথাগতভাবে হাত মেলাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আইসল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড দানিয়েল গুডজনসেন মেসির দিকে এগিয়ে যান। মেসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি জিজ্ঞেস করেন, আর্জেন্টাইন জাদুকর তাঁকে চিনতে পারছেন কিনা। তরুণ ফুটবলারটি নিজের পরিচয় দিতেই এক মুহূর্তের জন্য আকাশ থেকে পড়েন ৩৮ বছর বয়সী মেসি!
এই দানিয়েল গুডজনসেন আর কেউ নন, তিনি হলেন বার্সেলোনার প্রাক্তন তারকা ফরোয়ার্ড এইদুর গুডজনসেনের ছেলে, যিনি এক সময় ন্যু-ক্যাম্পে মেসির সতীর্থ ছিলেন। বার্সার সোনালী অতীতে এইদুর গুডজনসেন এবং মেসি একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৬৭টি ম্যাচ খেলেছিলেন এবং ২০০৮-০৯ মৌসুমে বার্সেলোনার সেই ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ (একই সাথে লিগ, কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জয়ের অন্যতম অংশীদার ছিলেন তাঁরা।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই রসালো ও আবেগঘন মুহূর্তের গল্প শুনিয়েছেন মেসি নিজেই। তিনি হেসে বলেন, ও হুট করে এসে আমাকে বলল, ‘চিনতে পারছিস আমি কে?’ আমি তো তখন পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলাম। তারপর সে যখন বলল, ও আমাদের গুডজনসেনের ছেলে, তখন আমার ঘোর কাটল। সত্যি বলতে, আমার একদম মনে ছিল না; কারণ শেষ যখন ওকে দেখেছি ও তখন বড্ড ছোট, এতোটুকু ছিল!
শৈশবের সেই পুঁচকে ছেলেটিই যে আজ ২০ বছরের টগবগে যুবক হয়ে স্বয়ং মেসির বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে নেমে গেছে, তা ভেবেই যেন এখনো ঘোর কাটছে না মায়ামি অধিনায়কের।
পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি ও পেশির ক্লান্তি কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরেছেন আলবিসেলেস্তেদের অধিনায়ক। গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় চোট পাওয়ার পর থেকে ভক্তদের মনে যে শঙ্কার মেঘ জমেছিল, তা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন এলএমটেন। তবে কোচের পরিকল্পনায় ম্যাচের শুরু থেকে খেলানো হয়নি তাঁকে, সাইডবেঞ্চেই বসেছিলেন তিনি।

৩৯তম জন্মদিনের ঠিক কয়েক দিন আগে এবং ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামার প্রাক্কালে ম্যাচের ৭০ মিনিটে যখন মেসি মাঠে নামেন, গ্যালারিতে তখন গগনবিদারি চিৎকার। মাঠে নামার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় লাউতারো মার্টিনেজ বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ৭২ মিনিটে চেনা বাঁ-পায়ের নিখুঁত ও জোরালো শটে বল জাল পাঠাতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি মেসি। এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের রেকর্ড গোল সংখ্যাকে ১১৭-তে নিয়ে গেলেন এই ফুটবল জাদুকর।
২০১৮-র শোধ ও গ্রুপ ‘জে’-র সমীকরণ: ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে এই আইসল্যান্ডের রক্ষণে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা, যেখানে মেসি একটি পেনাল্টি মিস করে খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন। ৮ বছর পর অউবার্নের মাঠে সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করে যেন পুরনো হিসেব চুকিয়ে নিলেন মেসি।
১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২-এর পর এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে নামা আর্জেন্টিনা আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের মূল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। ‘গ্রুপ জে’ তে আর্জেন্টিনার বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। প্রাক্তন সতীর্থের ছেলের সাথে এই মধুর পুনর্মিলনের পর মেসি জাদুতে আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
অপেক্ষার পালা শেষে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ
বিশ্ব কাঁপাতে প্রস্তুত পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা ও বার্না বয়
কোন দেশে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ট্রফি, যা জানালো এআই