বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হবার আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সেলেসাওদের ফুটবল দর্শনকে তুলনা করেছেন দেশটির ঐতিহ্যবাহী 'কার্নিভালের' প্রাণবন্ত শক্তির সঙ্গে। ইতালীয় এই ট্যাকটিশিয়ান তাঁর দলের আক্রমণভাগের অসামান্য প্রতিভার প্রশংসা করে দর্শকদের এক বিনোদনমূলক ফুটবল উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, একই সঙ্গে রক্ষণভাগের ফুল-ব্যাক পজিশনে পর্যাপ্ত খেলোয়াড়ের অভাব নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।
ক্রীড়া বিষয়ক চ্যানেল এসবিটি’কে দেয়া এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, ব্রাজিলের সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর একাত্মতা কীভাবে দলের কৌশলী কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে স্থানীয় উৎসবের অভিজ্ঞতা নেয়ার পর তিনি চান তাঁর দল মাঠেও সেই একই উদ্দীপনা ফুটিয়ে তুলুক।
ক্রীড়া দর্শনের সঙ্গে সংস্কৃতির সেতুবন্ধন তৈরি করে তিনি বলেন, জাতীয় দলের ডিএনএ বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের ডিএনএ মানেই হলো প্রতিভা, শক্তি আর আনন্দ। আমি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে কার্নিভালের সঙ্গে তুলনা করতে চাই। কার্নিভাল আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা ছিল; আমি বুঝেছি এতে প্রচুর শক্তি, আনন্দ, শিল্প আর প্রতিভা থাকে। আর সেই সঙ্গে থাকে দারুণ শৃঙ্খলা। কার্নিভালের প্রতিটি অংশ যেভাবে সঠিক সময়ে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়, ঠিক সেই শৃঙ্খলা আমাদের জাতীয় দলেও আনতে হবে। অর্থাৎ- আনন্দ, শক্তি, প্রতিভা এবং শৃঙ্খলা।
আক্রমণভাগের কাঠামো চূড়ান্তকরণ: এই প্রাণবন্ত শৈলী ধরে রাখতে আনচেলত্তি আক্রমণাত্মক ফর্মুলায় দল সাজানোর দিকে ঝুঁকছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আক্রমণভাগের মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে তিনি সামনে চারজন খেলোয়াড়কে খেলানোর পক্ষপাতী। বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে এখনো কয়েকটি জায়গা ফাঁকা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আনচেলত্তি বলেন, চার-পাঁচটি পজিশন নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় আছে। তাই এমন কিছু খেলোয়াড়কে ডেকেছি যাদের আমি খুব ভালো করে চিনি না। আমি একজন ডিফেন্ডার, মাঝমাঠের জন্য দুজন এবং আক্রমণের জন্য আরও দুজনকে খুঁজছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি, তবে জাতীয় দলের সৌভাগ্য যে এখানকার খেলোয়াড়রা ভীষণ প্রতিভাবান। এছাড়া বিদেশি খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব দিয়ে দলে নেওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
রক্ষণভাগের সংকট নিরসন: আক্রমণভাগ ছন্দে থাকলেও রক্ষণের দুই প্রান্ত বা ফুল-ব্যাক পজিশন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন কোচ। তিনি লক্ষ্য করেছেন, বর্তমানে এই পজিশনে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সংখ্যা আগের চেয়ে কম। তবে, রোমার হয়ে খেলা তরুণ ওয়েসলির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। অভিজ্ঞ এই কোচ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সেন্টার-ব্যাকদের ফুল-ব্যাক হিসেবে ব্যবহার করে ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে আত্মবিশ্বাসী।
এই সংকট নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন সেন্টার-ব্যাককে ফুল-ব্যাক হিসেবে খেলাতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। দলের জন্য ভারসাম্যই সবচেয়ে বড় কথা। আপনার যদি এমন একজন উইঙ্গার থাকে যে খুব আক্রমণাত্মক, তবে আপনার এমন ফুল-ব্যাকের প্রয়োজন নেই যে খুব বেশি উপরে উঠে খেলবে। এদের মিলিতাও সেনেগালের বিপক্ষে এই পজিশনে খুব ভালো খেলেছিল, মার্কিনহোসও তা করেছে। এবারের স্কোয়াডে আমি রজার ইবানেজকে পরখ করে দেখতে চাই। আমরা এমন কিছু প্রোফাইল খুঁজে বের করতে পারি যা মাঠে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা: কৌশলগত এই পরিবর্তনগুলো পরখ করার বড় সুযোগ মিলবে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে। দক্ষিণ আমেরিকার এই জায়ান্টরা ২৬ মার্চ ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে, এরপর ৩১ মার্চ লড়বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এছাড়া ৩১ মে পানামার বিরুদ্ধে একটি শেষ প্রস্তুতি ম্যাচও রয়েছে তাদের। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি যাচাই এবং সেরা একাদশ চূড়ান্ত করার জন্য এই ম্যাচগুলো হবে নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার মাটিতে।