বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ফিফার চরমপত্র

ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন তেহরানের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন নাটক। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ইরানি প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার পর, এবার তেহরানকে আগামী ২০ মে পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে ফিফা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে, যখন ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজকে কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।


উল্লেখ্য, কানাডা আইআরজিসি-কে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত থাকলেও ইরানের আসনটি ছিল শূন্য।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য নাছোড়বান্দা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে (নিউজিল্যান্ড, মিশর ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে)। ইনফান্তিনোর মতে, ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি মাধ্যম।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বভাবজাত টিপ্পনীও থেমে নেই। ইনফান্তিনোর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেন, জিয়ান্নি যদি বলে থাকে তবে ঠিক আছে। জিয়ান্নি আমার বন্ধু, সে যা খুশি করতে পারে। তবে, ইরান যদি বিশ্বকাপ জিতে যায়, তবে কী হবে? এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের রসিকতা, তখন সেটা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা করতে হবে। তারা কি ভালো দল? আপনাদের কি কোনো ধারণা আছে?

নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে নেয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এখন ইরানকে ২০ মে’র মধ্যে সুইজারল্যান্ডে ফিফা সদর দপ্তরে আলোচনার জন্য তলব করেছেন। এই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে ইরান আদৌ মাঠে নামবে কি না।


ইরানি ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজ শুক্রবার জানিয়েছেন, তারা ফিফার সাথে দ্রুত বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি বাহিনীর সাথে উত্তেজনার মাঝে ফুটবলারদের মাঠে নামানো এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের, তার আগে ২০ মে’র এই বৈঠকই হবে ইরানের ভাগ্যের নির্ধারক।

ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে তেহরান কি শেষ পর্যন্ত সামিল হতে পারবে, নাকি রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরেই থাকতে হবে তাদের? উত্তর মিলবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই।