কেন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিলেন?

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

এবারের বিশ্বকাপে একদল ফুটবল ভক্তের অংকটা একদম পরিষ্কার ও সরল- আর্জেন্টিনা যার বিপক্ষেই খেলবে, সমর্থন করতে হবে সেই দলকেই! এই ‘অ্যান্টি-আর্জেন্টিনা’ বা আর্জেন্টিনা-বিদ্বেষী হিড়িকের চক্করে পড়ে ভক্তরা কখনো আলজেরিয়ার সবুজ, কেপ ভার্দের নীল, আবার কখনো সুইজারল্যান্ডের লাল জার্সি, আবার কখনও ইংলিশ থ্রি লায়ন্সের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন।

এমনকি কিছুদিন আগেও যে ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হতো, শেষ দুইয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই তাদের সমর্থনের জোয়ার ভেসে এসেছিল। আর রোববারের মেগা ফাইনালে এই গোষ্ঠীটি যে, স্পেনের লাল জার্সি গায়ে জড়িয়ে গ্যালারি মাতাবে, তা বলাই বাহুল্য। এতে প্রশ্ন উঠছে, কেন আর্জেন্টিনার ফুটবল এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।


ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা কেন একই সাথে বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত দল? আসলে আলবিসেলেস্তেদের এই ফুটবল ঐতিহ্য যেমন একদিকে ম্যারাডোনার যাদু আর লিওনেল মেসির বিশ্বজোড়া ক্রেজ দিয়ে কোটি ভক্তের অন্ধ ভালোবাসা কুড়িয়েছে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে প্রতিপক্ষদের মনে জ্বালিয়ে দিয়েছে তীব্র ঈর্ষা, বিরক্তি আর ক্ষোভের আগুন।

ম্যারাডোনা মিথ ও ফকল্যান্ডের রাজনৈতিক আগুন: আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় ডিএনএ গড়ে উঠেছে কিছু অতিমানবীয় চরিত্রের হাত ধরে, যার শীর্ষে আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা সেই দুটি ঐতিহাসিক গোল, একটি বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং অন্যটি শতাব্দীর সেরা একক সোলো রান- আর্জেন্টিনার ফুটবলের প্রধান অহংকার।

ইংলিশ ভক্তদের বুকে ‘হ্যান্ড অব গড’-এর ক্ষত আজও টাটকা হলেও, আর্জেন্টাইনদের কাছে এটি ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের এক মধুর প্রতিশোধ। রাজনৈতিক সেই ক্ষোভের আগুন এখনো নেভেনি; এবারের সেমিতে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফিফার রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


মেসি ইফেক্ট ও বন্দনা-ক্লান্তি:
ম্যারাডোনার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এক আইকন লিওনেল মেসি, যিনি জনসমক্ষে শান্ত, কিন্তু যাঁর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং দীর্ঘস্থায়ী। বার্সেলোনার হয়ে ফুটবল শাসন করা মেসির সাথে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ পুরো ফুটবল বিশ্বকে দুটি কট্টর ক্যাম্পে বিভক্ত করে দিয়েছিল।

বছরের পর বছর ম্যারাডোনার সাথে তুলনা আর দেশের হয়ে ট্রফি না জেতার খোটা শোনার পর ২০২২ সালে কাতার জয় করে মেসি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো হাজার মাইল দূরের দেশেও মেসির কোটি কোটি অন্ধ ভক্ত রয়েছে।

তবে এই অতি-মেসি কেন্দ্রিক ন্যারেটিভ বা ২৪ ঘণ্টা মেসির পা চাটুকারিতা এবং তাঁর প্রতি অতিরিক্ত স্তুতি অনেক সাধারণ ফুটবল ভক্তকেই ক্লান্ত ও বিরক্ত করে তুলেছে।

লাতিন আমেরিকার ‘অহংকারী’ প্রতিবেশী: লাতিন আমেরিকার বুকেই আর্জেন্টিনার ইমেজ বা ভাবমূর্তি বেশ জটিল। নিজেদের ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত মনে করা আর্জেন্টাইনদের ফুটবল সংস্কৃতিতে জয়কে মনে করা হয় ‘আর্জেন্টিনীয় শ্রেষ্ঠত্ব’-এর প্রমাণ। তাদের এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় রূপ নেয় চরম অহংকারে। গ্যালারিতে ড্রাম, পতাকা আর গগনবিদারি চিৎকারে উন্মাদনা ছড়ানো এই ভক্তদের জাতীয়তাবাদ মাঝে মাঝে কুৎসিত রূপ ধারণ করে।

সম্প্রতি এক আর্জেন্টাইন টিভি ধারাভাষ্যকার মেক্সিকানদের সরাসরি ‘ঘৃণ্য’ বলে বসেন এবং দাবি করেন তারা সব বিষয়ে আর্জেন্টিনাকে হিংসে করে, যা নিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, ফরাসি খেলোয়াড়দের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হওয়া নিয়ে আর্জেন্টাইন ভক্তদের বর্ণবাদী গান বা ২০২৪ সালে স্বয়ং খেলোয়াড়দের সেই একই গান গেয়ে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার ইমেজকে চরম কালিমালিপ্ত করেছে।


চিরশত্রু ও ‘যে কেউ, কিন্তু আর্জেন্টিনা নয়’ নীতি:
ব্রাজিলের সাথে আর্জেন্টিনার দশকের পর দশক ধরে চলা দ্বৈরথ তো ফুটবলের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাটিতে গিয়ে আর্জেন্টাইন ভক্তদের ‘ব্রাজিল, বলো তোমার কেমন লাগছে’ গান গেয়ে স্বাগতিকদের খোঁচানো কেউ ভোলেনি।

এছাড়া ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারের পর চিলির সাথে এবং বিশ্বকাপে বারবার মুখোমুখি হওয়ায় মেক্সিকোর সাথেও আর্জেন্টিনার সম্পর্ক বেশ তেতো। মাঠের ভেতর নিখুঁত শৈল্পিক ফুটবলের পাশাপাশি আর্জেন্টাইনদের চতুরতা এবং ‘ডাইভিং’ বা ফাউল আদায়ের কৌশলকে অনেকে ‘ফেয়ার প্লে’-এর পরিপন্থী মনে করেন।

সব মিলিয়ে, মাঠের দাপট আর মাঠের বাইরের এই বিতর্কিত আচরণের কারণেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ ফুটবল ভক্তের কাছে টুর্নামেন্টের অলিখিত মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, ‘আর্জেন্টিনা ছাড়া যে কোনো দল জিতুক!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

একাত্তর/এআরএস
অবশেষে আকাশি-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ দুই দশকের এক অবিশ্বাস্য রূপকথার চূড়ান্ত অবসান ঘটল। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে দিলেন। মঙ্গলবার...
বুয়েনোস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে মঙ্গলবার রাতে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে যখন আকাশি-সাদা জার্সিতে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক রূপকথাটি লিখে ফেললেন লিওনেল মেসি, তখন কেবল আর্জেন্টিনাই নয়, বিষাদের চাদরে...
বুয়েনোস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন রাতে কেবল গ্যালারির আশি হাজার দর্শক কিংবা সতীর্থরাই কাঁদেননি, ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিদায়ে অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল তাঁর...
আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিদায়ী মঞ্চে মঙ্গলবার রাতে তৈরি হলো এক অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর দৃশ্যপট! এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর পুরো স্টেডিয়াম যখন প্রিয়...
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত...
দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরজুড়ে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১...
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি অব্যাহত রয়েছে। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর