খেলার অন্তিম লগ্নে ১৮ গজ বক্সের প্রান্ত থেকে মাইনোর সেই মাপা শট যখন জালে জড়াল, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তখন আনন্দের সুনামি। অথচ ম্যাচটা এক সময় মনে হচ্ছিল ইউনাইটেডের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। বিরতির পর ডমিনিক সোবোসলাই এবং কোডি গ্যাকপোর গোলে সমতায় ফিরেছিল লিভারপুল। কিন্তু মাইনোর জেদ আর মাইকেল ক্যারিকের আস্থার জয় হলো শেষ পর্যন্ত। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে হাতে রেখে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেললো ইউনাইটেড।
ম্যাচের শুরুতেই লিভারপুলকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে রেড ডেভিলরা। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বুলেট গতির শট অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ঠিক আট মিনিট পরেই বেনজামিন সেস্কোর গোল!
ব্রুনো ফার্নান্দেসের হেড গোলরক্ষক উডম্যান ফিরিয়ে দিলেও বল সেস্কোর গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়। ভিএআর পরীক্ষায় দেখা যায় বলটি সেস্কোর আঙুলে আলতো ছোঁয়া লেগেছিল, কিন্তু তা গোল বাতিলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম লিভারপুল এত দ্রুত ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার লজ্জায় পড়ল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমাদ ডিয়ালো মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। সেই সুযোগে হ্যারি ম্যাগুয়ারকে গতির দৌড়ে হারিয়ে দিয়োগো দালতের পায়ের মাঝখান দিয়ে বল জালে পাঠান সোবোসলাই।
এর কিছুক্ষণ পরেই সেন ল্যামেন্সের মারাত্মক ভুলে বল পান ম্যাক অ্যালিস্টার, আর তাঁর পাস থেকে ফাঁকা জালে গোল করে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান গ্যাকপো। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল!
সদ্য ৫ বছরের নতুন চুক্তিতে সই করা ২১ বছর বয়সী মাইনোকে মৌসুমের শুরুতে পাত্তাই দেননি প্রাক্তন কোচ রুবেন আমোরিম। কিন্তু অন্তর্বর্তী বস মাইকেল ক্যারিক আসার পর থেকে ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই স্টার্ট করেছেন এই তরুণ তুর্কি। সেই আস্থার প্রতিদান তিনি দিলেন লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করে।
ম্যাচ শেষে মাইনোর সহজ স্বীকারোক্তি, আমি খুব বেশি গোল করি না, কিন্তু এমন বড় ম্যাচে গোল করতে পেরে দারুণ লাগছে। অন্যদিকে, লিভারপুল বস আর্নে স্লট বেশ বিরক্ত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া করে তিনি বলেন, ২-০ থেকে কামব্যাক করার পর অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া উচিত ছিল, যা আমরা পারিনি।
এখন লিভারপুল ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে ঝুলে আছে, যেখানে সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে অ্যাস্টন ভিলা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যখন উৎসবের বাদ্যি বাজছে, লিভারপুলের জন্য তখন ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।