২২ বছর! সময়টা কম নয়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে ট্রফিটার জন্য গানার্সদের বুকটা হা-হুতাশ করছিল, অবশেষে সেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সোনালী মুকুট এখন উত্তর লন্ডনের রাজপুত্রদের মাথায়। তবে, আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর শিষ্যদের সামনে এক নতুন ও আরও বড় ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এবার গানার্সদের পাখির চোখ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘অধরা’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়!
গত রোববার সেলহার্স্ট পার্কে মৌসুমের শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর এক আবেগঘন পরিবেশে বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রিমিয়র লিগ ট্রফি হাতে পায় আর্সেনাল। গানার্সদের হয়ে জাল কাঁপান গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও নোনি মাদুয়েকে।

এই রাজকীয় জয়ের পর রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে স্পষ্ট ৭ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেই লিগ শেষ করল গানার্সরা। অবশ্য গত মঙ্গলবার বোর্নমাউথের সঙ্গে সিটির ড্রয়ের পরই আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, তবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আসল মহেন্দ্রক্ষণটি যেন দক্ষিণ লন্ডনের রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলেই ধরা দিল।
হাজারো উচ্ছ্বসিত ভক্তের গগনবিদারি চিৎকারের মাঝে লাল-সাদা ফিতায় মোড়ানো ট্রফিটি যখন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড শূন্যে তুলে ধরলেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন এক আনন্দের মহাসমুদ্রে রূপ নিল। আনন্দে আত্মহারা খেলোয়াড়রা কোচ আর্তেতাকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচতে শুরু করেন, যা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে।

উদযাপনের পর ‘২৬ চ্যাম্পিয়ন’ লেখা বিশেষ গানার্স জার্সি পরে এবং গলায় চকচকে মেডেল ঝুলিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন আর্তেতা। এক বুক স্বস্তি আর গর্ব নিয়ে তিনি বলেন, এটাকে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব! কী অসাধারণ এক মুহূর্ত।
তিনি বলেন, আমরা গত তিনবার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলাম, যা ছিল প্রচণ্ড কষ্টদায়ক। কিন্তু সেই ক্ষতটাই আমাদের সবাইকে নতুন পথ খুঁজে নিতে এবং নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে বাধ্য করেছে। আমরা যেভাবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ট্রফিটা জিতলাম, তা একে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়ার পর মাঝেমধ্যে নিজের মনেও সন্দেহ উঁকি দিয়েছিল বলে স্বীকার করেন আর্তেতা। তবে ছয় বছরের ট্রফিখরা কাটানো এই মাস্টারমাইন্ড এখানেই থেমে যাওয়ার পাত্র নন।

খেলোয়াড়দের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমি ছেলেদের বলেছি, এই জার্সি এখন ভিন্ন কিছু। আমরা এখন চ্যাম্পিয়ন, আমাদের গায়ে এখন আলাদা শক্তি। তবে এর সঙ্গে আরও বড় দায়িত্ব এসেছে। এখন আমাদের স্ট্যান্ডার্ড আরও উঁচুতে তুলতে হবে এবং আরও বেশি ট্রফি জিততে হবে।
এবার বুদাপেস্টে পিএসজি বধের ছক
লিগ তো হলো, এবার ইউরোপের সিংহাসন দখলের পালা। আগামী শনিবার বুদাপেস্টে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে পিএসজির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে ফাইনালে হারের পর এটিই গানার্সদের ইতিহাসের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল।

গত মৌসুমে এই পিএসজির কাছেই সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্সেনালকে, তবে এবার লিগ জয়ের এই উড়ন্ত ফর্ম আর ইতিবাচক আবহকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মাটিতে মিশিয়ে দিতে চান আর্তেতা।
হুঙ্কার ছেড়ে আর্তেতা বলেন, লিগ জয়ের এই অসাধারণ শক্তির প্রবাহ আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে বুদাপেস্টে কী করতে হবে তা নিয়ে ছক কষে ফেলেছি। মঙ্গলবার থেকেই আমাদের ফাইনালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হবে। ক্লাবের ইতিহাসে এক সোনালী নতুন অধ্যায় লিখতে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটা ঘরে তুলতে আমরা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারছি না।
প্রিমিয়ার লিগের রাজাদের এবার ইউরোপের ডন হওয়ার পালা, আর্তেতার এই ‘সসি’ চ্যালেঞ্জে পিএসজি শিবিরে যে কাঁপন ধরেছে, তা বলাই বাহুল্য!
