যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অধিকারকর্মীদের বিশেষ সতর্কবার্তা জারি

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর দুই মাসেরও কম সময়। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দেশটিতে ভ্রমণকারী ফুটবল ভক্ত, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের জন্য একটি বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কবার্তা’ জারি করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এবং এনএএসিপিসহ কয়েক ডজন অধিকাররক্ষা গোষ্ঠী এই সতর্কবার্তায় সই করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে সফরকারীরা নির্বিচারে আটক বা বহিষ্কারসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।

অধিকাররক্ষা গোষ্ঠীগুলোর মতে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতি এবং জাতিগত সংখ্যালঘু ও সমকামী সম্প্রদায়ের জন্য ফেডারেল সুরক্ষা ব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে আসায় এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আসা দর্শনার্থীরা বর্ণবাদী বৈষম্য বা ‘রেসিয়াল প্রোফাইলিং’-এর শিকার হতে পারেন।

এছাড়া তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি এবং কোনো কারণে অভিবাসন কেন্দ্রে আটক হলে সেখানে অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী বংশোদ্ভূত, সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী এবং এলজিবিটিকিউ ব্যক্তিদের ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসিএলইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১১টি আয়োজক শহরে বসবাসরত মানুষ এবং খেলা দেখতে আসা পর্যটকদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে চাপ দেয়ার জন্য ফিফার কাছে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তারা ‘ডিগনিটি ২০২৬ কোয়ালিশন’-এর মাধ্যমে ফিফাকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করলেও সংস্থাটি এখনো পর্যন্ত কোনো ‘অর্থবহ আশ্বাস’ দেয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ফিফা যে ‘নিরাপদ, মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বিশ্বকাপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গঠনতন্ত্রের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। টুর্নামেন্টের সাথে সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে তারা বিশেষ উপদেষ্টা দলও গঠন করেছে। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এই ভ্রমণ সতর্কবার্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী জুন মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হবে ইতিহাসের বৃহত্তম এই বিশ্বকাপ। মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে বড় একটি অংশ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে। নিউ ইয়র্কের কাছে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ফুটবল যখন বিশ্বকে এক করার কথা বলে, তখন আয়োজক দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে এমন উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দর্শকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি জরুরি ‘জরুরি পরিকল্পনা’ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের খেলার আগে এই আইনি ও সামাজিক বিতর্ক ফিফা কীভাবে সামাল দেয়।