ভ্যাঙ্কুভারে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বল!

ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আয়োজক শহরগুলো যখন বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে মরিয়া, তখন কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহর এক মাস্টারস্ট্রোক খেলল! শহরের অন্যতম প্রধান ল্যান্ডমার্ক বা পরিচিত প্রতীক ‘সায়েন্স ওয়ার্ল্ড’-এর বিশালাকার জিওডেসিক ডোমটিকে রূপ দেওয়া হচ্ছে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’র এক অতিকায় রূপে।

সাধারণ কোনো ব্যানার বা পোস্টার নয়, আস্ত একটি আভিজাত্যময় গম্বুজকেই ফুটবল বানিয়ে দেওয়ার এই চোখ ধাঁধানো উদ্যোগ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা তৈরি করেছে।

ফিফা জানিয়েছে, এই রূপান্তরের পর এই ল্যান্ডমার্কটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য বিউটিফুল ডোম’। ৪০ মিটার ব্যাসের এই বিশাল গম্বুজটিকে ট্রিওন্ডা বলের নিখুঁত রূপ দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ১৩১টি বিশেষভাবে তৈরি কাস্টম-শেপড প্যানেল।

গত ৬ মে থেকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং পুরো অবয়বটি ফুটিয়ে তুলতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগবে। আগামী জুনের শুরুতে, অর্থাৎ খেলা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এই বিশালাকার ফুটবলটিকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করা হবে। ভ্যাঙ্কুভারের পর্যটন সংস্থা 'ডেস্টিনেশন ভ্যাঙ্কুভার' এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রাদেশিক নেতারা একে কেবল সাজসজ্জা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে বিশ্বমঞ্চে ভ্যাঙ্কুভারের ব্র্যান্ডিং এবং বিশ্বকাপ আমেজের এক প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে দেখছেন।

স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রিওন্ডা’র অর্থ হলো তিন তরঙ্গ। এই নকশার মাধ্যমে বিশ্বকাপের তিন যৌথ আয়োজক-  কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দৃঢ় বন্ধন ও সংযোগকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফলে ভ্যাঙ্কুভারের এই প্রজেক্টটি স্রেফ স্থানীয় কোনো চমক নয়, বরং এটি পুরো টুর্নামেন্টের ত্রিদেশীয় ফরম্যাটেরই এক বিশাল দৃশ্যমান প্রতীক। জুনের শুরুতে যখন এই ডোম উন্মোচিত হবে, তখন এটি পুরো বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দূর থেকে এই বিশাল ফুটবল গম্বুজ দর্শকদের আকর্ষণ করবে ঠিকই, তবে কাছে এলে তাদের জন্য থাকছে আরও বড় চমক। সায়েন্স ওয়ার্ল্ডের ভেতরে প্রথমবারের মতো উত্তর আমেরিকায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ফিফা মিউজিয়ামের বিশেষ প্রদর্শনী ‘সকার অ্যান্ড টেকনোলজি’।

১৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির উদ্ভাবন কীভাবে ফুটবলকে বদলে দিয়েছে এবং আধুনিক রূপ দিয়েছে, তা এই প্রদর্শনীতে দর্শকরা কাছ থেকে দেখতে ও উপভোগ করতে পারবেন। ফলে দর্শকরা এখানে শুধু সেলফি তুলতেই আসবেন না, বরং ফুটবল ইতিহাসের দারুণ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবেন।

বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে আয়োজক শহরগুলো নিজেদের প্রচারণার জন্য সাধারণত রাস্তাঘাটে ছোটখাটো ব্যানার বা ফেস্টুন লাগায়, যা টুর্নামেন্ট শেষ হতেই হারিয়ে যায়। কিন্তু ভ্যাঙ্কুভার হেঁটেছে একেবারেই ভিন্ন এবং সাহসী পথে। ৪০ মিটারের একটি ডোম যখন ১৩১টি প্যানেলে মোড়ানো ফুটবল সেজে আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে, তখন তা এড়িয়ে যাওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

ডেস্টিনেশন ভ্যাঙ্কুভারের প্রধান নির্বাহী রয়্যাল চুইন এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মন্ত্রী অ্যান ক্যাং স্পষ্ট করে বলেছেন, এই আইকনিক দৃশ্যটি বিশ্বজুড়ে ভ্যাঙ্কুভারের দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করবে এবং প্রদেশের অর্থনীতিতে বড় সুফল বয়ে আনবে।

খেলা শুরুর আগেই বিশ্বব্যাপী প্রচারের আলো নিজেদের দিকে কেড়ে নেওয়ার এই দৌড়ে ভ্যাঙ্কুভার যে অন্য শহরগুলোর চেয়ে বেশ কয়েক গোল এগিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য! এখন শুধু অপেক্ষা জুনের শুরুর সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন সায়েন্স ওয়ার্ল্ড রূপ নেবে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল ডোম-এ।