নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওঁকে ৪-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা। ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণের ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ফরাসি জায়ান্ট লিওঁ।
বার্সেলোনার এই মহাকাব্যিক জয়ের মহানায়ক পোলিশ ফরোয়ার্ড এভা পাজোর। এর আগে ভলফসবুর্গের হয়ে পাঁচ-পাঁচটি ফাইনাল হেরে ট্রফি ছোঁয়ার যে আক্ষেপ তাঁর ছিল, নিজের ষষ্ঠ ফাইনালে এসে বার্সার জার্সিতে তা দূর করলেন দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক নিচু শটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন পাজোর। এরপর ৬৯ মিনিটে লিওঁ ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে খুব কাছ থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে লিওঁর কফিনে শেষ পেরেকগুলো ঠোকেন তরুণ ফরোয়ার্ড সালমা পারায়ুয়েলো। ৯০ মিনিটে এক দর্শনীয় শটে ব্যবধান ৩-০ করার পর, ইনজুরি টাইমে আরও একটি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিওঁর জালে বল পাঠিয়ে বার্সেলোনার ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রথম গোলটির নেপথ্যে কারিগর ছিলেন পাত্রি গুইজারো, যাঁর ৪০ মিটারের একটি চোখধাঁধানো দৌড় এবং অ্যাসিস্ট থেকেই বার্সা লিড পেয়েছিল। আইতানা বোনমাতি ও অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকাদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকলেও মাঝমাঠে গুইজারোর এই পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।
এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা নারী দল চলতি মরশুমে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে সম্ভাব্য চারটি ট্রফির সব কটিই নিজেদের শোকেসে ভরল। গত ছয় মৌসুমের মধ্যে এটি তাদের চতুর্থ ইউরোপীয় শিরোপা, যা এক দশক ধরে নারী ফুটবলে লিওঁ-র একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বার্সেলোনার এক নতুন সাম্রাজ্য বা 'ডাইনাস্টি' প্রতিষ্ঠার কথা জানান দেয়।
ঠিক এক বছর আগে এই ফাইনালেই আর্সেনালের কাছে ১-০ গোলে হেরে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছিল বার্সার, তবে এবার আর কোনো ভুল না করে রাজকীয়ভাবেই ইউরোপের মুকুট ফিরে পেল কাতালান কন্যারা।