উত্তর আমেরিকার তীব্র দাবদাহ আর ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্বে গেল গেল রব উঠেছে, ঠিক তখনই যেন এক বালতি বরফ পানি ঢেলে দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আবহাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া সব হাইপ ও আলোচনাকে সরাসরি ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই ইংলিশ গোলমেশিন। কেন সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, কড়া রোদ আর গরমের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না, থমাস টুখেলের ‘থ্রি লায়ন্স’রা যেকোনো নরককুণ্ডে গোল করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত!
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরুর আগে হ্যারি কেইন যে কতটা খুনে ফর্মে আছেন, তার প্রমাণ মিলল গত শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। খাঁ খাঁ রোদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড, আর সেই ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি এসেছে কেইনের এক দুর্দান্ত বুলেট হেড থেকে। এই গোলের পর ক্লাব ও দেশের জার্সি গায়ে চলতি মরশুমে কেনের মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ‘৬৭’-তে!
ম্যাচ জিতলেও ইংল্যান্ডের নতুন হাই-প্রোফাইল জার্মান কোচ থমাস টুখেল কিন্তু প্রথমার্ধে দলের কিছুটা দিশাহীন ও ফ্রিস্টাইল ফুটবল নিয়ে ডাগআউটে বসে বেশ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে টেক্সাসের মাঠের মান এতটাই খারাপ আর আঠালো ছিল যে, সেখান থেকে কোনো ফুটবলার নতুন করে চোট না পেয়ে অক্ষত শরীরে মাঠ ছাড়তে পেরেছেন, এটাই ইংলিশ শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাঠে ঘাম ঝরানো প্রসঙ্গে ম্যাচের পর হ্যারি কেইন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না গরমটা খুব বেশি সমস্যা তৈরি করেছে। অবশ্যই আমরা কড়া অনুশীলনের মাধ্যমে এর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি। প্রথম কয়েকটা দিন একটু খটকা লাগলেও এখন আমাদের স্কোয়াডের প্রায় সব খেলোয়াড়ই এই আবহাওয়ার সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই গরম নিয়ে বাইরে যে আলোচনা হচ্ছে, তা আসলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। আমরা সবাই বিশ্বমানের পেশাদার ফুটবলার, কোনো অজুহাত চলে না।
১৭ জুন ডালাসের মেগা মঞ্চে ইংল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। আর প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ সেই চিরশত্রু ক্রোয়েশিয়া, যারা ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই হিসাব চুকানোর জন্য গত সোমবার থেকেই ফ্লোরিডায় ডেরা গেঁড়েছে ইংলিশরা। প্রথম ম্যাচের আগে আরও প্রায় ১০ দিন এই চড়া রোদেই বুট জোড়া মকশো করবেন বেলিংহাম-কেইনরা।
অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছেন কেইন। হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় কাজ। আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভালো অনুভব করছি। টুর্নামেন্ট শুরুর অপেক্ষা যেন আর সহ্য হচ্ছে না। ৬৭ গোল করা এই ক্ষুধার্ত হ্যারি কেনের হাত ধরে এবার ফুটবল অবশেষে ‘আইল্যান্ডে’ ফিরে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!