২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের পর আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি নিজের জন্মশহর রোজারিওতে ফিরেছেন। ফোর্ট লডারডেল থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে মঙ্গলবার ভোরে রোসারিওর 'ইসলাস মালভিনাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে' পৌঁছান ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। এর পর তিনি কড়া নিরাপত্তায় ফুনেসের 'কেনটাকি কান্ট্রি ক্লাবে' নিজের বাড়িতে যান।
বিমানবন্দর এবং তাঁর ব্যক্তিগত আবাসস্থলের বাইরে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামার পাশাপাশি মেসির শৈশবের স্মৃতিকাতর স্থানগুলোতেও ছিল সমর্থকদের আবেগঘন উপস্থিতি।
মেসির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিণ রোসারিওর 'এস্তাদো দে ইসরাইল ৫২৫' (সাবেক লাভালেহা প্যাসেজ) নম্বর বাড়িটি এখন ভক্তদের জন্য এক আবেগপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগ পর্যন্ত মেসি এই বাড়িতেই বড় হয়েছেন। বর্তমানে এটি মেসি পরিবারের মালিকানাধীন এবং এর একটি দেয়ালে রয়েছে বিশাল এক ‘১০ নম্বর’ জার্সির চোখধাঁধানো মুরাল।
ভক্তদের শ্রদ্ধার্ঘ্য: বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই বাড়িটি পতাকা ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে ওঠে। ফাইনালে হারের পরও বৃষ্টি ও কুয়াশা উপেক্ষা করে অজস্র মানুষ এই বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হন।

বাড়ির প্রবেশদ্বারের গেটে মার্কার দিয়ে লেখা বার্তা থেকে শুরু করে ফুল, জার্সি ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে চারপাশ। ভক্তদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড়কে তাঁর ফুটবলের জাদু, নিষ্ঠা এবং দেশকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো। চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা না আসলেও এই ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়কের প্রতি অনুরাগীদের কোনো ক্ষোভ নেই, আছে কেবল অকৃত্রিম ভালোবাসা।
আর্জেন্টিনা দলের ৯ জন সতীর্থের মতো একই ফ্লাইটে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে না ফিরে মেসি মায়ামির বাড়িতে পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান। টানা ৫০ দিনের ক্যাম্প ও মানসিক চাপ শেষে স্ত্রী আন্তোনেলা এবং তিন সন্তান চিরো, মাতেও ও থিয়াগোর সান্নিধ্যে তিনি নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নেন। শারীরিক ধকল সামলানো এবং মেজাজ ফুরফুরে করার লক্ষ্যে এই সাময়িক বিরতি নেন তিনি।

পেশাদারি ক্যারিয়ারে অজস্র অর্জন ও ট্রফি থাকা সত্ত্বেও আরও একটি বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার বেদনা মেসিকে ভারাক্রান্ত করেছে। সতীর্থদের জন্য গর্ব এবং একই সঙ্গে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি ঘুরে দাঁড় করাতে না পারার হতাশা, সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আপাতত পরিবার ও বাবা জোর্হে এবং মা সেলিয়ার সঙ্গে দেখা করতে রোসারিওতে অবস্থান করলেও, নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও জাতীয় দলের বিষয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেই দিন পার করছেন এই বিশ্বসেরা ফুটবলার।
তথ্যসূত্র: ওলে
