২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এখন এক আবেগঘন ও অনিশ্চিত মুহূর্ত অতিক্রম করছে। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের রেশ না কাটতেই মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছাড়ার মুহূর্তে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির করা বিস্ফোরক মন্তব্য সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।
ক্রীড়াবিষয়ক সাময়িকী ‘ওলে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি নিজের ভবিষ্যতের বিষয়ে বেশ অস্পষ্ট কিন্তু স্পষ্ট এক ইঙ্গিত দিয়েছেন। বাসে ওঠার ঠিক মুহূর্তে ‘লা স্কালোনেতা’র স্রষ্টা স্কালোনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত দলের সাথে থাকবেন। এরপর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকব, এবং এরপর সম্ভবত আমি ছেড়ে দেব। তবে এ নিয়ে আমাকে সভাপতির সাথে কথা বলতে হবে। এই পদটি এক অসাধারণ, চমৎকার এবং স্বপ্নীল অভিজ্ঞতা, তবে এর জন্য অনেক কিছু বিলিয়ে দিতে হয়। তাই বলছি, আমি কেবল ডিসেম্বর পর্যন্ত আছি।

তিনি আরও যোগ করেন, কোনো আর্জেন্টাইনই এমন জায়গায় থাকার স্বপ্ন হাতছাড়া করতে চাইবে না এবং এ ধরনের অভিজ্ঞতার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য পরম সম্মানের। তবে তাঁর কথা ও হাবভাবে পরিষ্কার বোঝা গেছে, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।
ফাইনাল হারলেও স্কালোনির প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই। তাঁর নিজ শহর পুহাতোতে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা হর্ন বাজিয়ে এবং স্কালোনির পরিবারের সদস্যদের অভিবাদন জানিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যান। ঠিক ২০২৫ সালের নতুন বছরের উদযাপনের মতো করেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন তারা।
স্কালোনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বললেও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউডিও 'চিকি' তাপিয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছেন। তাপিয়ার বিশ্বাস, আবেগ থিতু হলে তিনি স্কালোনিকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানাতে পারবেন।
এর আগে ২০২৩ সালের শেষদিকে মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারানোর পরও স্কালোনি দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাপিয়া সেবারও তাঁকে রাজি করিয়েছিলেন। স্কালোনি বর্তমানে ১০৪টি ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। চুক্তি বাড়লে তিনি গুইলের্মো স্তাবিলে-র ১২৪টি ম্যাচের ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৩৯-১৯৫৮ এবং ১৯৬০-১৯৬১) টপকে যেতে পারবেন।

এএফএ’র অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, তারা স্কালোনির বক্তব্যের চেয়ে বেশি আশাবাদী এবং দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাকে চিন্তা করার সময় দিতে চান। যদি স্কালোনি থেকে যান বা চলেও যান, তবুও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সামনে কিছু অনিবার্য পরিবর্তন আসছে।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিকোলাস ওতামেন্দি তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। আর, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মেসি এখনো কোনো মন্তব্য না করায় এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ঝুলে রয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ ফিফা উইন্ডোতে বেশ কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কনমেবলের নতুন ক্যালেন্ডার ও বাছাইপর্বের প্রস্তুতি ছক সাজাতে হবে।
আবেগাপ্লুত হয়ে সন্তানদের সাথে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় স্কালোনি বার্তা দেন, জাতীয় দল ও জনগণের মধ্যে যে ঐক্যের চেতনা তৈরি হয়েছে, তা যেন কখনো ভেঙে না পড়ে। স্কালোনির বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হলেও, এএফএ ম্যানেজমেন্ট তাঁকে আরও চার বছর (২০৩০ পর্যন্ত) ধরে রাখার বিষয়ে হাল ছাড়েনি।
তথ্যসূত্র: ওলে
