রোববার ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি। ই-গ্রুপের এই উদ্বোধনী ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও। আপাতদৃষ্টিতে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াতের’ এই লড়াইয়ে জার্মানিকে বিশাল ফেভারিট মনে হলেও, প্রতিপক্ষকে মোটেও খাটো করে দেখতে নারাজ জার্মান ডিফেন্ডার নিকো শ্লোটারবেক। তবে প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও রোববার পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ার ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এই তারকা।
২০১৮ ও ২২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায়ের পর এবার নিজেদের গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া ডাই মানশাফটরা। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে শুধু জয় নয়, বরং একটি বড় ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকে নিজেদের শক্তির বার্তা দিতে চায় হুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
ভৌগোলিক দিক থেকে কুরাসাও অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি দেশ। নেদারল্যান্ডসের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত এই ক্যারিবিয়ান দ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি এবং আয়তন ১৭১ বর্গমাইল। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা সবচেয়ে ছোট দেশ এটি।
তবে দলটিকে ‘পুঁচকে’ ভেবে ভুল করলে বড় মাশুল গুনতে হতে পারে; কারণ এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় মূলত নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং ইউরোপীয় ফুটবলের আদলে গড়ে ওঠা। দলের কোচ হিসেবে আছেন অভিজ্ঞ ডাচ ফুটবল মস্তিষ্ক ডিক অ্যাডভোকাট।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শ্লোটারবেক বলেন, বুধবার আমরা কুরাসাওকে নিয়ে টিম মিটিং করেছি। ওরা নেদারল্যান্ডসে ট্রেনিংপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বেশ ভালো একটা দল। তবে আমরাই ম্যাচে ফেভারিট এবং আমি নিশ্চিত আমরাই জিতব।
হিউস্টনের প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে মাঠে নামতে হবে ওজিল-মুলারদের উত্তরসূরিদের। তবে আবহাওয়া বা অতীতের ব্যর্থতার কোনো চাপই ফুটবলাররা মাথায় নিচ্ছেন না। শ্লোটারবেকের ভাষায়, আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামব এবং রবিবার দেখাব আমরা কতটা ভালো দল। বিগত দুটি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে কাউকে কিছু প্রমাণ করার তাড়না আমাদের নেই। আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল এবং দীর্ঘদিন পর মাঠে আমরা আবারও খাঁটি জার্মান গুণাবলীর প্রতিফলন ঘটাচ্ছি।
জার্মান ডিফেন্ডার মনে করিয়ে দেন, বর্তমান স্কোয়াডটি তরুণ ও অভিজ্ঞদের এক দুর্দান্ত ককটেল, যেখানে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার তাঁদের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। ডিসিপ্লিন, প্যাশন আর যেকোনো পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা, এই চেনা জার্মান ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারলে কিউরাসাও বা গ্রুপ পর্বের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট জার্মানিকে রুখতে পারবে না বলেই বিশ্বাস ডাই মানশাফট শিবিরের। এখন দেখার বিষয়, রবিবারের হিউস্টনের মাঠে এই বামন দেশটি কোনো রূপকথা লেখে, নাকি জার্মানির গোলমেশিনে পিষ্ট হয়!