বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ার পর থেকেই ফুটবলবিশ্ব জুড়ে চলছে ব্রাজিলের ব্যবচ্ছেদ। তবে ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরা যে দলের ওপর কতটা চটেছেন, তা হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া গেল ব্রাজিলের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বিশেষ ভোট ও মূল্যায়ন টুল ‘প্লেড ওয়েল অর প্লেড ব্যাডলি’ (ভালো খেলেছে নাকি খারাপ খেলেছে)-র ফলাফলে।
মরক্কো বধ করতে না পারার সব রাগ ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা উগরে দিয়েছেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর ওপর। ভক্তদের ভোটে এই ম্যাচে মাঠের সবচেয়ে জঘন্য বা নিকৃষ্টতম খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর সাধারণ পাঠকদের মতে, সেলেসাওদের এবারের ম্যাচটির বারোটা বাজার পেছনে মূল ভিলেন ছিল তাদের ছন্নছাড়া মিডফিল্ড বা মাঝমাঠ।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে ৩০ মিনিট খেলা হওয়ার পর থেকে চালু হওয়া এই পোলে ভক্তরা সরাসরি ভালো খেলেছে অথবা খারাপ খেলেছে অপশনে ক্লিক করে খেলোয়াড়দের নম্বর দেন। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে ব্রাজিল শিবিরের ভেতরের কঙ্কালসার দশা!
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে জাদুকরী গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচানো রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন। তিনি একাই পেয়েছেন ৮৪.৪ শতাংশ ইতিবাচক বা প্রশংসাসূচক ভোট। ভিনির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগ কোনোমতে ৪৬.৫০ শতাংশ পাস মার্ক পেয়েছে। তবে আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় হতাশা ও নেতিবাচক হাইলাইট ছিলেন ইগর থিয়াগো। মাঠে তাঁর জঘন্য পারফরম্যান্সের কারণে রেকর্ড ৮৪.৫১ শতাংশ ভক্ত তাঁর নামের পাশে খারাপ খেলেছে বোতামে চাপ দিয়েছেন।
ডিফেন্স বা রক্ষণভাগ নিয়েও ব্রাজিলিয়ানদের ক্ষোভের শেষ নেই। পুরো ডিফেন্সিভ সিস্টেমের ওপর ৬১.৬৩ শতাংশ দর্শক অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এই ভাঙাচোরা ডিফেন্সে একমাত্র গোলরক্ষক আলিসন বেকার (৫৪.৪৬ শতাংশ পজিটিভ ভোট) এবং ফ্ল্যামেঙ্গোর দানিলো (৫০.০৬ শতাংশ পজিটিভ ভোট) কোনো মতে মুখরক্ষা করতে পেরেছেন। কিন্তু ডিফেন্ডার রজার ইবানেজকে রীতিমতো কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সমর্থকরা; ৮৭.৯৮ শতাংশ নেতিবাচক ভোট নিয়ে ডিফেন্সের খলনায়ক বনে গেছেন তিনি।
গ্লোবোর পাঠকদের মতে, ব্রাজিলের আসল সর্বনাশটা হয়েছে মাঝমাঠে। রক্ষণভাগের খুব কাছাকাছি পজিশন নিয়ে খেললেও মরক্কোর আক্রমণ রুখতে বা ফরোয়ার্ডদের বল জোগান দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন মিডফিল্ডাররা। ফলে এই সেক্টরটি ৬১.৭৬ শতাংশ দর্শকের তীব্র ধিক্কার ও নেতিবাচক রেটিং পেয়েছে। মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যে দানিলো সান্তোস (৫৯.৬২ শতাংশ) এবং ফাবিনহো (৫৬.৩৬ শতাংশ) তাও কিছুটা আলো ছড়াতে পেরেছেন।
কিন্তু যার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা ছিল, সেই ক্যাসেমিরো যেন মাঠে একেবারেই হারিয়ে গিয়েছিলেন। কড়া সমালোচনার মুখে পড়া এই মিডফিল্ডার মাত্র ১০.৯৭ শতাংশ ইতিবাচক ভোট পেয়েছেন, যা দলের যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সর্বনিম্ন! মাঠের এই ভরাডুবির পর এবং ক্যাসেমিরো-ইবানেজদের এমন হতশ্রী রূপ দেখার পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরের ম্যাচে একাদশে বড় কোনো ওলটপালট আনেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।