২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের অন্যতম হট ফেভারিট এবং ইউরো ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন প্রথম ম্যাচেই এক চরম লজ্জাজনক ধাক্কা খেল। সোমবার আটলান্টার মাঠে ফিফা র্যাংকিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা পুচকে আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম পরাশক্তি স্পেনকে ০-০ গোলের সমতায় রুখে দিয়েছে, যা চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম বড় অঘটন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
র্যাংকিংয়ে ৬১ ধাপের বিশাল ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও স্পেনের সুপারস্টার ঠাসা আক্রমণভাগ কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহার ডিফেন্সের দেয়াল কোনোভাবেই ভাঙতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগকে ব্যতি-ব্যস্ত করে তোলে স্প্যানিশরা। তবে প্রথমার্ধেই স্পেনের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের হয়ে গোল করার সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস, কিন্তু তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরে আসে এবং পরবর্তীতে তাঁর আরেকটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন ভোজিনহা।
শুধু তোরেস নন, বার্সার আরেক মিডফিল্ডার পেদ্রির নিশ্চিত গোলের শট রুখে দেওয়ার পাশাপাশি প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একটি নিশ্চিত গোল নস্যাৎ করেন এই ৪০ বছর বয়সী বাজপাখি।

খেলার অচলাবস্থা ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধে ডাগআউট থেকে বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু কেপ ভার্দের জমাট ডিফেন্সের সামনে এই তরুণ তুর্কিও দলের ভাগ্য বদলাতে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেননি।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এক দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে, যারা এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইতিহাস গড়ার এই ম্যাচে তারা শুধু ডিফেন্সই করেনি, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তো প্রায় জিতেই যাচ্ছিল!

ডিইনি বোর্গেসের এক দুর্দান্ত হেড স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন কোনোমতে সেভ না করলে হয়তো পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ত এই আফ্রিকান আন্ডারডগরা।
ম্যাচ শেষে হতাশ স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, আমরা জানি, আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আজকের ম্যাচটি আমাদের জেতা উচিত ছিল। আমাদের খেলায় আজ ফ্রেশনেস এবং ফিনিশিংয়ের তীব্র অভাব ছিল। আগামী চার দিনে আমাদের ভুলগুলো শুধরে ফুটবলারদের ছন্দে ফিরতে হবে। আমরা জানতাম প্রতিপক্ষ শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের খেলোয়াড়দের পায়ে আজ সেই চেনা কোয়ালিটি বা ফাইনাল টাচ ছিল না। ফুটবলে এমনটা হতেই পারে।

ফ্রান্সের সাথে যৌথভাবে এবার বাজির বাজারে বিশ্বজয়ের ফেভারিট হলেও, বিশ্বকাপে স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচের রেকর্ড কিন্তু ঐতিহাসিকভাবেই বেশ নড়বড়ে। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে বিগত তিনটি বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র ৩টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে (২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া, ২০১৮ সালে ইরান এবং ২০২২ সালে কোস্টারিকা)।
এছাড়া বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে স্পেন তাদের উদ্বোধনী ম্যাচ জিততে পেরেছে মাত্র ৪ বার (১৯৩৪, ২০০২, ২০০৬ এবং ২০২২)। কেপ ভার্দের মতো নবাগত দলের বিরুদ্ধে এই ড্রয়ে এইচ গ্রুপে স্পেনের নকআউটের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেল।
এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। এখন দেখার বিষয়, এই ধাক্কা সামলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা পরের ম্যাচে কেমন ঘুরে দাঁড়ায়!
