শুক্রবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে যখন হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল, তখন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের সামনে লক্ষ্য শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নেওয়া নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে প্রায় এক শতাব্দীর এক গৌরবময় মহাজাগতিক রেকর্ড!
বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে সব কটি (২৩টি) আসরে অংশ নেওয়া সেলেসাওরা শনিবার সকালে বিশ্বমঞ্চে তাদের ৫০তম ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে যাচ্ছে। ফুটবল ইতিহাসের রাজপুত্রদের এই সুদীর্ঘ ও রাজকীয় পথচলায় হাইতি হতে যাচ্ছে এক নতুন ঐতিহাসিক সদস্য।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এ পর্যন্ত খেলা ১১৫টি ম্যাচে ৭৬টি জয়, ২০টি ড্র এবং ১৯টি হারের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিজেদের ঝুলিতে রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা; যেখানে তারা প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে ২৩৮ বার, আর গোল খেয়েছে ১০৯টি। সাত মহাদেশের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি থেকে শুরু করে নবাগত, বিশ্বকাপের আঙিনায় ব্রাজিলের বিষাক্ত ছোবল হজম করেনি, এমন দেশ মেলা ভার। আর সকালে সেই তালিকার সুবর্ণ জয়ন্তীতে নাম লেখাতে যাচ্ছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি।
সুইডিশ জুজু ও ডাচ-মেক্সিকানদের সাথে পুরনো শত্রুতা: ব্রাজিলের এই সুদীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষের নাম ‘সুইডেন’। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দল সর্বোচ্চ ৭ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। আর সুইডিশদের রেকর্ড তো ব্রাজিলের সামনে এক কথায় ধূলিসাৎ, ৫টি জয় আর ২টি ড্র নিয়ে অপরাজেয় সেলেসাওরা।
সুইডেনের বিরুদ্ধে জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কিছু অধ্যায়; যেমন ১৯৫০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ৭-১ গোলের সেই বিখ্যাত টর্নেডো, ১৯৫৮ সালে সুইডেনকে তাদেরই মাটিতে ৫-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়, কিংবা ১৯৯৪ সালের সেমিফাইনালে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটা।
ব্রাজিলের চিরশত্রুদের খতিয়ান: সুইডেনের ঠিক পরেই ব্রাজিলের ওপর সবচেয়ে বেশি ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করেছে স্পেন, ইতালি, মেক্সিকো এবং নেদারল্যান্ডস, যাদের প্রত্যেকের সাথে বিশ্বমঞ্চে পাঁচ বার করে দেখা হয়েছে সাম্বা বয়দের।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চিলি, স্কটল্যান্ড, পোল্যান্ড, চেকোস্লোভাকিয়া এবং যুগোস্লাভিয়ার মতো দলগুলোর সাথে ব্রাজিলের যুদ্ধ হয়েছে চারটি করে সংস্করণে। সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, ক্যামেরুন এবং ক্রোয়েশিয়াও ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার তিতা স্বাদ পেয়েছে তিন বার করে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপটি শুরু হতেই ব্রাজিলের এই ঐতিহাসিক খাতা আরও একটু সমৃদ্ধ হয়েছে। গত শনিবার মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ মঞ্চে এই দুই দলের মাত্র দ্বিতীয় মোলাকাত। এর আগে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে মরক্কোকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল রোনালদো-রিভালদোদের ব্রাজিল।
এবার মরক্কো লড়াকু ড্র করে ডট বসালেও, ৫০তম প্রতিপক্ষ হাইতিকে পেয়ে ব্রাজিল কোনো মায়া-দয়া দেখাবে না বলেই মনে করছেন সমর্থকরা। একদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার তীব্র তাগিদ, অন্যদিকে ৫০তম ভিন্ন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মাইলফলক রাঙানোর মোক্ষম সুযোগ, সব মিলিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় আজ এক আগুনে ফুটবল ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।