সেলেসাওদের নিয়ে মোটেও আতঙ্কিত নন আনচেলত্তি

হাইতির বিরুদ্ধে ‘গ্রুপ সি’-এর দ্বিতীয় রাউন্ডের জীবন-মরণ ম্যাচের ঠিক আগের রাতে ব্রাজিল শিবিরের চারপাশের উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন চতুর ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে হেক্সা মিশনের শুরুতেই সমালোচকদের তীব্র বাণের মুখে পড়া সেলেসাওদের পক্ষে সাফাই গেয়ে এই বুড়ো গুরু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধু একটা ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখছেন না।

বিশ্বখ্যাত ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ল’কিপ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি তাঁর ট্রেডমার্ক শান্ত ভঙ্গিতে বলেন, ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এই ডাগ আউটে বসাটা আমার জন্য এক বিশাল গৌরব ও সৌভাগ্যের বিষয়। আমি জানি এখানে প্রত্যাশা আর চাপের পাহাড় থাকবেই, তবে এই ধরণের পরিস্থিতি সামলানোর মতো পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা আমার ঝুলিতে আছে।

Coach Carlo Ancelotti 01
২০২৫ সালে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া এই হাই-প্রোফাইল কোচের অধীনে এটিই সেলেসাওদের প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। প্রথম ম্যাচের ফলাফল যে আশানুরূপ হয়নি তা মেনে নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্বকাপ কোনো দুদিনের খেলা নয়, এটি একটি দীর্ঘ লড়াই। আর প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স কখনোই একটা দলের চূড়ান্ত সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে দেয় না।

ব্রাজিলিয়ান মিডিয়া ও ফুটবল পণ্ডিতরা যেভাবে প্রথম ম্যাচের পর ভিনিসিয়ুস-ক্যাসেমিরোদের ধুয়ে দিয়েছেন, তা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, মরক্কোর বিরুদ্ধে ফলাফল অবশ্যই ভালো ছিল না এবং আপনারা দলের ওপর একটু বেশিই চড়াও হয়েছেন। তবে সমালোচনাটা ইতিবাচক ও গঠনমূলক হওয়া উচিত। কারণ আমি আগেও বলেছি, কেউ প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপ জিতে বাড়ি চলে যায় না।

Coach Carlo Ancelotti 04
শনিবার সকালের ম্যাচে পুচকে হাইতিকে হারাতে পারলেই নকআউট পর্বের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, যা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে দলের ওপর থেকে হিমালয়সম চাপ এক নিমেষে নামিয়ে দেবে। প্রথম ম্যাচের ছন্নছাড়া ফুটবল ভুলে দল যে টুর্নামেন্টের গতিপথের সাথে সাথে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা নিয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী এই ডন।

নিজের সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে আনচেলত্তি শেষ লাইনে বলেন, এই ধরনের হাই-প্রেসার পরিস্থিতি কীভাবে ডিল করতে হয়, তা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করা এবং প্রতি ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করা। এখন দেখার বিষয়, কোচের এই অতি-আত্মবিশ্বাস ফিলাডেলফিয়ার মাঠে হাইতির বিরুদ্ধে কতটা কাজে আসে!