ফুটবল বিশ্বকাপের জি-গ্রুপের লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হচ্ছে মিশর ও নিউজিল্যান্ড। দুই দলের সামনেই ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনো জয়ের মুখ দেখেনি কেউই, তাই ভ্যাঙ্কুবারের এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে প্রথম জয়ের এক অগ্নিপরীক্ষায়।
তবে, এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সামনে রয়েছে এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর রেকর্ড ধরে রাখার মিশন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এ পর্যন্ত খেলা নিজেদের সব কটি ম্যাচেই ড্র করেছে কিউইরা!
২০১০ সালের বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচই ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা, আর এবার ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচেও ইরানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে ড্যারেন বেজলির শিষ্যরা। ফলে আজ মিশরের বিরুদ্ধে হার এড়াতে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের ‘অপরাজিত’ থাকার তকমাটা ধরে রাখতে পারবে ওশেনিয়ার এই প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে তলানির দল নিউজিল্যান্ড। সেই হিসেবে ইরানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ড্রটি তাদের জন্য এক মস্ত বড় সাফল্য। তবে সেই ম্যাচে কিউইদের রক্ষণভাগের কঙ্কালসার চেহারাটাও বড় বেশি নগ্ন হয়ে পড়েছিল।
ডিফেন্ডারদের যাচ্ছেতাই ভুলের কারণেই দু-দুবার এগিয়ে গিয়েও ইরানকে ম্যাচ উপহার দিয়ে আসতে হয়েছে তাদের। আর ডিফেন্সের এই নড়বড়ে অবস্থাই আজ নিউজিল্যান্ডের জন্য কাল হতে পারে, কারণ প্রতিপক্ষ শিবিরে ওত পেতে আছেন বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা গোলমেশিন মোহাম্মদ সালাহ।
অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে মিশর। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল ফারাওরা।
সেই তুলনায় বেলজিয়ামের সাথে এই ড্র তাদের ফুটবলে বিশাল পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইমাম আশুরের সেই বুলেট গতির গোলটি বানিয়ে দিয়েছিলেন স্বয়ং মোহাম্মদ সালাহ। আট বছর আগে বিশ্বকাপে দুটি গোল করা সালাহ আজ নিউজিল্যান্ডের নড়বড়ে রক্ষণকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোল এবং দলের প্রথম ঐতিহাসিক জয় তুলে নিতে পুরোপুরি মুখিয়ে আছেন।
দুই শিবিরের জন্যই স্বস্তির খবর হলো, প্রথম ম্যাচের ধকল কাটিয়ে ওঠার পর কোনো দলেই নতুন কোনো ইনজুরির ধাক্কা নেই। পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই আজ মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই পক্ষ।
কাগজে-কলমে ও মাঠের পরিসংখ্যানে অবশ্য কিউইদের চেয়ে ঢের এগিয়ে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। অতীত রেকর্ডের খাতা বলছে, দুই দলের আগের তিনটি সাক্ষাতের প্রতিটিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মিশর। বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকান কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের এটিই প্রথম ম্যাচ।
কিউইরা বিশ্বকাপে যে চারটি ম্যাচ ড্র করেছে, তার মধ্যে কেবল একটি ম্যাচ গোলশূন্য ছিল। অর্থাৎ, গোল করতে এবং গোল হজম করতে, দুটি বিষয়েই তাদের দারুণ ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। রক্ষণভাগ নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে মিশর শিবিরেও, কারণ বিশ্বকাপে খেলা নিজেদের ৭টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে ক্লিন শিট (কোনো গোল না খাওয়া) রাখতে পেরেছে তারা।
জয়হীন থাকার এক লজ্জাজনক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মিশর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে জয়ের মুখ না দেখার তালিকায় হন্ডুরাসের (৯টি ম্যাচ) পরেই রয়েছে মিশর (৭টি ম্যাচ)। আজ জিততে না পারলে এই তালিকায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে তারা।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের সিংহভাগ সময় দুর্দান্ত ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি মিশর। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, নিউজিল্যান্ডের দুর্বল রক্ষণভাগের সামনে সালাহ এবং তাঁর দল পুরো ৯০ মিনিট জুড়েই আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।
সালাহর গতির কাছে পরাস্ত হতে পারে কিউইদের ডিফেন্স। সব দিক বিবেচনা করে ফুটবল পণ্ডিতদের স্পষ্ট প্রেডিকশন, সোমবার সকালে নিউজিল্যান্ডের অজেয় থাকার রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়ে মিশর ২-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পকেটে পুরবে।