ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের কে-গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার মাঠে বুধবার সকাল ৮টায় মুখোমুখি হচ্ছে কলম্বিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। ২০১৮ সালের পর প্রথম বিশ্বমঞ্চে ফিরেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানের রাজকীয় জয় তুলে নেয় কলম্বিয়া।
আর, দ্বিতীয় ম্যাচে আফ্রিকান শক্তি কঙ্গোকে হারাতে পারলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। এমনকি অন্য ম্যাচে পর্তুগাল যদি উজবেকদের হারাতে ব্যর্থ হয়, তবে সকালেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে কলম্বিয়া।
১২ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল কলম্বিয়া। এবার নেস্টর লরেঞ্জোর দল সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারালেও কলম্বিয়ার রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট ছিল।
কোচ লরেঞ্জো তাই কঙ্গোকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ম্যাচের আগে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কঙ্গো দলটা খুব দ্রুত ট্রানজিশন করতে পারে। লং বল এবং কাউন্টার অ্যাটাকে তারা মারাত্মক বিপজ্জনক। আমাদের জন্য ম্যাচটা সহজ হবে না। স্বস্তির খবর, কলম্বিয়া শিবিরে নতুন কোনো চোটের আঘাত নেই।
এদিকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো কিন্তু এবার বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস লেখার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে ‘জায়ারে’ নামে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল তারা। দীর্ঘ ৫২ বছর পর এবার ডিআর কঙ্গো নামে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই তারা শক্তিশালী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়েছে।
পর্তুগালের জোয়াও নেভেসের গোলের পর কঙ্গোর হয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল সমতায় ফেরান ইয়োয়ান উইসা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ডিআর কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিয়েছেন তিনি। পর্তুগালের বিরুদ্ধে এই ড্র কঙ্গো শিবিরের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে তুলেছে। আজ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আবারও কোনো অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে তৈরি তারা।
উইসা যদি আবারও গোলের দেখা পান, তবে মিশরের মোহামেদ সালাহ (২০১৮)-এর পর দ্বিতীয় আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করার এক অনন্য নজির গড়বেন তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে এটিই কলম্বিয়া এবং ডিআর কঙ্গোর প্রথম দ্বিপাক্ষিক লড়াই। গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার রেকর্ড এককথায় দুর্দান্ত। তাদের শেষ ৭টি গ্রুপ পর্বের ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে তারা, যেখানে গোল করেছে ১৭টি আর হজম করেছে মাত্র ৫টি। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ১০টি ম্যাচেই টানা গোল করার রেকর্ড রয়েছে কলম্বিয়ার, যা বর্তমানে আর্জেন্টিনার সাথে যৌথভাবে চলমান টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম রেকর্ড।
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে ২-১ গোলে হারার পর, বিশ্বকাপের মঞ্চে আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা শেষ ৩টি ম্যাচেই জিতেছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে, কঙ্গো ল্যাটিন আমেরিকান দলগুলোর বিরুদ্ধে তাদের খেলা একমাত্র প্রীতি ম্যাচটিতে চিলির কাছে হেরেছিল।
আজকের ম্যাচে কলম্বিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং কঙ্গোর গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল দর্শকদের একটি হাই-স্কোরিং ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে যাচ্ছে। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের কড়া প্রেডিকশন বলছে, রক্ষণভাগের কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও আক্রমণভাগের শক্তিতে কঙ্গোকে পরাস্ত করে কলম্বিয়া ৩-২ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে।