স্কটিশদের হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি

ভোরে মায়ামিতে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর অলঘোষিত ফাইনালে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সেলেসাও বস কার্লো আনচেলত্তি তাঁর দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। স্কটল্যান্ডকে মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাচটা প্রচণ্ড কঠিন হতে যাচ্ছে। স্কটিশদের দলে দারুণ কোয়ালিটি আছে, ওরা আস্ত এক ঝাঁক লড়াকু এবং ভীষণ গোছানো একটা দল। ম্যাকটোমিনে কিংবা ম্যাকগিনের মতো অভিজ্ঞ ও চমৎকার সব খেলোয়াড় আছে ওদের। বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ পাওয়ার দিন বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে!

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ ড্র আর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিলের পরের রাউন্ডের টিকিট প্রায় নিশ্চিত। তবে, নকআউটে গ্রুপ ‘এফ’-এর সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে এড়াতে হলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই প্রধান লক্ষ্য ব্রাজিলের। অপটা সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের গ্রুপ সেরা হওয়ার সম্ভাবনা ৬২% এবং রানার্সআপ হওয়ার সম্ভাবনা ২৬%। অন্যদিকে, সমান ৪ পয়েন্ট থাকা মরক্কোর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৫%।

Brazil Team 01
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে খেলা ৬০টি ম্যাচের মধ্যে ব্রাজিল হেরেছে মাত্র ৫টিতে। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো, তাদের শেষ ৩টি গ্রুপ পর্বের হারের প্রতিটিই এসেছে এই ‘ম্যাচডে-থ্রি’ বা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, ১৯৬৬ সালে পর্তুগাল, ১৯৯৮ সালে নরওয়ে এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।

এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ধার নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে সেলেসাওরা শট নিয়েছে মাত্র ২০টি (মরক্কোর বিপক্ষে ১২টি, হাইতির বিপক্ষে ৮টি)। প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০টি করে শট নেয়া, বিশ্বকাপের ইতিহাসে (১৯৬৬ সালের পর থেকে) ব্রাজিলের সবচেয়ে ধীরগতির ও সর্বনিম্ন শটের রেকর্ড। আর ঠিক এই জায়গাতেই স্কটিশদের বধ করতে আনচেলত্তির তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন নেইমার জুনিয়র।

ডান পায়ের কাফ মাসেলের চোট কাটিয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রের দলে ফেরাটা সেলেসাও শিবিরে নতুন অক্সিজেনের জোগান দিচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়ার পর এই প্রথম ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। আগে ধারণা করা হয়েছিল তাকে বদলি হিসেবে খেলানো হবে, তবে ম্যাচের ঠিক আগে আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার শুরু থেকেই খেলার জন্য একদম ফিট!

Brazil Team 03
আনচেলত্তি বলেন, ও এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই সপ্তাহে ও খুব ভালো অনুশীলন করেছে, ও শতভাগ ফিট। ও চাইলে ম্যাচের অর্ধেক সময় খেলতে পারে, আবার পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্যও ও তৈরি। আমরা খুব খুশি যে ও ফিরে এসেছে। নেইমার দলে অভিজ্ঞতা ও ফুটবলীয় প্রজ্ঞা নিয়ে আসে। ও খুব সিরিয়াস এবং আমরা যত দ্রুত সম্ভব ওকে মাঠে দেখতে চাই।

ইতিহাস গড়ার নেশায় বুঁদ স্কটল্যান্ড আজ ব্রাজিলকে মরণকামড় দিতে চাইবে। তবে নেইমারের প্রত্যাবর্তন আর আনচেলত্তির সতর্ক রণকৌশল আজ মায়ামির মাঠে সাম্বা ঝড় তোলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!