ফুটবল বিশ্বকাপে সি-গ্রুপের অঘোষিত ‘ফাইনাল’ ম্যাচে ভোরে মায়ামিতে পেন্টাজয়ী ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে স্কটল্যান্ড। নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে স্কটিশদের মাত্র ১টি পয়েন্ট দরকার। আর, এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিলকে সমীহ করলেও বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছেন না স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। বিশ্বসেরা দলটির মুখোমুখি হওয়াকে ভয়ের বদলে রোমাঞ্চকর সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
পরিসংখ্যান কিন্তু স্কটল্যান্ডের জন্য এক বড় ভয়ের কারণ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলই একমাত্র দল, যাদের বিরুদ্ধে ১০ বার খেলেও কখনো জয়ের মুখ দেখেনি স্কটিশরা (৮ হার, ২ ড্র)। বিশ্বকাপে এটি দুই দলের পঞ্চম সাক্ষাৎ। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিরুদ্ধে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি স্কটল্যান্ড; উল্টো ম্যাচ প্রতি গড়ে ২.৫টি করে গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। তবে এবার সেই অভিশপ্ত ইতিহাস নতুন করে লেখার হুংকার দিয়েছেন রবার্টসন।
ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য স্কোয়াড ডেপথ নিয়ে রবার্টসন বলেন, এখানে শুধু নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এনড্রিক বা মার্টিনেল্লির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে না। আমি চাইলে ব্রাজিলের পুরো স্কোয়াডের প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের নাম বলে দিতে পারি, কারণ ওদের সবার কোয়ালিটি বিশ্বমানের। এমনকি যারা ব্রাজিলে নিজেদের ঘরে বসে আছে, তারাও দুর্দান্ত! কার্লো আনচেলত্তি কাকে খেলাবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। আমাদের শুধু নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুত হতে হবে। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, কিন্তু এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং এটা দারুণ রোমাঞ্চের এক উপলক্ষ।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফিরেছে সেলেসাওরা। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস ব্রাজিলের হয়ে নিজের শেষ ৫ ম্যাচে সরাসরি ৬টি গোলে (৩ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন এবং এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন।
স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় হাইপ চোট কাটিয়ে পোস্টার বয় নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে। কাকতালীয়ভাবে, ২০১১ সালের মার্চে লন্ডনের ইমিরেটস স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে এই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম জোড়া গোল করেছিলেন নেইমার।
স্কটিশ কোচ স্টিভ ক্লার্ক নেইমারকে নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, নেইমারের কোয়ালিটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই, ও আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সুপারস্টার। বিশ্বকাপের আগে ওর চোটের সমস্যা থাকেই। কার্লো আনচেলত্তি ওকে শুরু থেকে খেলাবেন নাকি বদলি হিসেবে নামাবেন, তা ওঁর বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছে। নেইমার মাঠে নামলে গ্যালারির দর্শকরা গর্জে উঠবে এবং দল বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবে। তবে আমাদের জন্য ব্রাজিল দলের সবাই বিপজ্জনক, নেইমার শুধু তাদের মধ্যে আরও একজন বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ!”
যদি স্কটল্যান্ড ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে নকআউটে যেতে পারে, তবে তা হবে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের প্রথম কোনো বড় আসরে গ্রুপ পর্ব পার করার মহাকাব্যিক রেকর্ড। মায়ামির মাঠে স্কটিশদের ডিফেন্সিভ দেয়াল নাকি ব্রাজিলের সাম্বা জাদু, কার জয় হবে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব!