২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে শুক্রবার রাত ১টায় জিলেট স্টেডিয়াম সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের। গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ফ্রান্স। উভয় দলই তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ঠিকই, তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্মান আর নকআউটে সহজ পথ খুঁজে পেতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই কারো।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে এবারের আসরে চমক দেখিয়ে চলেছে। ইরাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া আর সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর নরওয়ের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তাদের এই সাফল্যের মূল কারিগর আর কেউ নন, গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড।
প্রথম দুই ম্যাচেই চারটি গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি কতটা মরিয়া। অন্যদিকে, ফ্রান্স বরাবরের মতোই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। সেনেগাল ও ইরাককে সোজা উড়িয়ে দিয়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা প্রমাণ করেছে, তারা কেন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপেও হালান্ডের মতোই চারটি গোল করে ফরাসি আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নরওয়ের জন্য বড় ধাক্কা জুলিয়ান রিয়েরসনের ইনজুরি। বুরুশিয়ার এই ডিফেন্ডারের পরিবর্তে মার্কাস পেডারসেনকে দেখা যেতে পারে রাইট-ব্যাকে। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের কাঁধে থাকবে মাঝমাঠের ভার, আর আক্রমণভাগে হালান্ডের সাথে থাকবেন আলেকজান্ডার সোরলোথ ও আন্তোনিও নুসা।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের ডাগআউটে কোচ দেশমের হাতে রয়েছে সমৃদ্ধ বেঞ্চ। ব্র্যাডলি বারকোলা কিংবা ডেসিরে ডুয়ে, কাকে খেলাবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে তাকে। তবে এমবাপ্পের সঙ্গী হিসেবে মাইকেল ওলিস ও উসমান দেম্বেলের উপস্থিতি ফরাসি আক্রমণভাগকে করে তুলেছে অত্যন্ত বিধ্বংসী। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের সর্বশেষ দেখায় নরওয়েকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। তাই ইতিহাস আর বর্তমান ফর্ম, উভয় দিক থেকেই কিছুটা এগিয়ে থাকছেন এমবাপেরা।
নরওয়ের রক্ষণভাগ ফ্রান্সের গতির সঙ্গে পেরে উঠবে কি না, তা নিয়ে বোদ্ধাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। নরওয়ে যদিও সাতটি গোল করেছে, তবে তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা নড়বড়ে। বিপরীতে ফ্রান্স ছয়টি গোল করে হজম করেছে মাত্র একটি। ফলে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইটি হবে সমানে সমান। হালান্ডের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে পারলেও, দেম্বেলে ও ওলিসের সমর্থনসহ এমবাপের ক্ষুরধার আক্রমণের সামনে নরওয়ের রক্ষণ দেওয়াল ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সব মিলিয়ে একটি জমজমাট ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় জিলেট স্টেডিয়াম। ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, কে হবে গ্রুপ ‘আই’-এর রাজা? হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ফ্রান্স ১-২ গোলে জয়লাভ করে শীর্ষস্থান দখল করবে, এমনটাই বাজি ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার অপেক্ষা, হালান্ডের বিধ্বংসী রূপ নাকি এমবাপের গতি, কার শেষ হাসি ফোটে আজকের রাতে!