ফুটবল মাঠের জাদুকর নেইমার জুনিয়র মানেই যেন বিনোদন আর আবেগের এক মিশ্রণ। ৯৮১ দিনের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বুধবার মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে মাঠে নামেন ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে নেইমারের সেই ব্যক্তিগত মুহূর্ত, ম্যাচ শেষে সাজঘরে একা বসে অঝোরে কাঁদলেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টারের দীর্ঘ ইনজুরি ও মাঠের বাইরের লড়াইয়ের পর এই প্রত্যাবর্তন যেন শুধু এক ম্যাচ খেলা নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার গল্প।
২০২৩ সালের অক্টোবরে পাওয়া হাঁটুতে ভয়াবহ চোট এবং এরপর গত মাসের কাফ ইনজুরি, নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রাটাই ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে তিনি দলের বাইরে ছিলেন, কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় গ্যালারিজুড়ে ভক্তদের কণ্ঠে যখন তার নাম প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, তখন থেকেই যেন ফিরে এল সেই পুরনো নেইমার। ম্যা
চ শেষে সাংবাদিকদের সামনে নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি তিনি। আমি ড্রেসিংরুমে একা গিয়েছিলাম এবং চোখের জল ফেলেছি। এটা এক বিশাল স্বস্তির মুহূর্ত, পরম কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি আবারও এই অনুভূতি ফিরে পেয়েছি, এমনটাই ছিল তার অকপট স্বীকারোক্তি।
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ৭৯টি গোল করা নেইমার ২০১৪ সাল থেকে চারটি বিশ্বকাপে নিজের জাদু দেখিয়ে আসছেন। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে দলে ফিরে ব্রাজিলকে আগের চেয়ে ভিন্ন দেখছেন তিনি। নেইমারের ভাষায়, আমি অনেকদিন দলের বাইরে ছিলাম, তাই এখনকার দলটাকে একদম নতুন মনে হচ্ছে। আমি সতেজ চোখে পুরো বিষয়টাকে দেখছি। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপাতে পেরে তিনি যে কতটা আনন্দিত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে সি-গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নকআউটে পা রাখল সেলেসাওরা। নেইমার ফিরে আসায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগ যে আরও ধারালো হলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন চোখ তাদের পরের লড়াইয়ের দিকে। আগামী সোমবার হিউস্টনে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নেইমার কি পারবেন তার পুরনো ছন্দে ফিরে দলকে ষষ্ঠ শিরোপার স্বাদ দিতে? ভক্তদের মনে এখন সেই আশার প্রদীপই জ্বলছে। মাঠের লড়াইয়ে চিরচেনা নেইমারকে আবারও দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব!