ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হলো এক আবেগঘন মুহূর্তের। প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠ কাঁপালেন নেইমার জুনিয়র। মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ৭৬তম মিনিটে যখন তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন গর্জে উঠেছিল। দীর্ঘ ইনজুরি ও মাঠের লড়াইয়ের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ফিরে আসাটা ছিল নেইমারের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এল আরেক নাম- লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে ডে-স্পোর্টস-এর সাথে আলাপচারিতায় দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রাক্তন সতীর্থ মেসির জন্মদিনের প্রসঙ্গ আসতেই নেইমার যেন উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়লেন। মাঠের জাদুকর মেসি সম্পর্কে নেইমার বলেন, লিও মাঠের বাইরে একজন অসাধারণ মানুষ। সে মাঠের ভেতরে যেমন চমৎকার, মাঠের বাইরে তার চেয়েও বেশি। তাকে আমার বন্ধু হিসেবে পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম সেরা পাওনা।
তাদের এই বন্ধুত্বের রসায়ন বার্সেলোনা থেকে পিএসজি হয়ে আজও অটুট। নেইমার জানালেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন এই কদিনও তাদের নিয়মিত কথা হচ্ছে। হাসতে হাসতে নেইমার যোগ করেন, আমরা একে অপরের সঙ্গে অনেক কথা বলি, সে জানে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক বৈরিতা থাকলেও, নেইমার বরাবরই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়। সেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার মানুষেরা আমাকে যে ভালোবাসা দেখায়, তার জন্য আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন দক্ষিণ আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তিকে এক অনন্য জায়গায় নিয়ে এসেছে।
বর্তমানে মেসি যেমন বিশ্বকাপে গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নকআউটের শীর্ষে নিয়ে গেছেন, তেমনি নেইমারও ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেন জয়ের মঞ্চে। নকআউট পর্বের হিসাব-নিকাশ এখন তুঙ্গে। ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ জয় করে অপেক্ষা করছে পরবর্তী রাউন্ডের প্রতিপক্ষের।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অপেক্ষায় আছে গ্রুপ ‘এইচ’-এর রানার্সআপ দলের। বিশ্বকাপের বর্তমান ড্র অনুযায়ী, সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মেসি-নেইমার দ্বৈরথ দেখার এক রোমাঞ্চকর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মাঠের লড়াই যেটাই হোক না কেন, তাদের এই অটুট বন্ধুত্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী উদাহরণ হয়ে থাকবে। মাঠের লড়াইয়ে হয়তো তারা একে অপরের প্রতিপক্ষ, কিন্তু মাঠের বাইরে তারা যে একে অপরের হৃদয়ের কাছের মানুষ, তা আবারও প্রমাণ করলেন নেইমার!