নিউইয়র্কে ইকুয়েডর সমর্থকদের হাতাহাতি-মারামারি

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ইকুয়েডরের জন্য হয়ে উঠেছে এক দুঃস্বপ্নের নাম। টুর্নামেন্টের শুরুতে ‘ডার্ক হর্স’ বা চমক দেখানো দল হিসেবে যাদের ঘিরে বাজি ধরেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, সেই ইকুয়েডর এখন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। আর এর প্রভাবে মেজাজ হারিয়েছেন দলটির সমর্থকরা।

আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র, এই বিপর্যয়ের পর জার্মানির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া ইকুয়েডরের জন্য নকআউটের দরজা পুরোপুরি বন্ধ। অথচ এই বাঁচামরার লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরের বিশৃঙ্খল কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার আগে ইকুয়েডরের সমর্থকরা তাদের প্রিয় দলের সমর্থনে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু সমর্থন জানাতে গিয়ে তারা যে ন্যক্কারজনক কাণ্ড ঘটালেন, তা দেখে লজ্জায় পড়েছেন খোদ ইকুয়েডরবাসীই। ভক্তদের এই মিলনমেলা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইকুয়েডরের ঘরোয়া লিগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনা এবং লিগা দে কিটোর সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, গালিগালাজ, লাথি ও ঘুষির এক নগ্ন প্রদর্শনী। ফুটবলের মহাযজ্ঞে এসে নিজেদের দলের সমর্থক হয়েও একে অপরের ওপর চড়াও হওয়া এই দৃশ্য এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।

উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের অস্থিরতা শুধু ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেকের পরিবারের সঙ্গেও সমর্থকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির খবর গণমাধ্যমে এসেছিল। মাঠের পারফরম্যান্সে চরম ব্যর্থতা আর মাঠের বাইরে একের পর এক কলঙ্কজনক ঘটনা, সব মিলিয়ে ইকুয়েডরের জন্য এই বিশ্বকাপ যেন ভুলে যাওয়ার মতো এক অভিজ্ঞতা।

ভক্তদের এই বিশৃঙ্খলা দলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। একদিকে দলের করুণ পারফরম্যান্স, অন্যদিকে সমর্থকদের এমন অসংলগ্ন আচরণ ইকুয়েডরের জাতীয় দলকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে। জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মেজাজ ও শৃঙ্খলা ধরে রাখাটাই এখন কোচ বেকাসেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইকুয়েডর কি পারবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে মেটলাইফে ফুটবলীয় লড়াইয়ে ফিরতে, নাকি এই এবার মঞ্চ থেকে বিদায়ের গ্লানি নিয়ে ফিরতে হবে তাদের? উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই, কিন্তু টাইমস স্কয়ারে ঘটে যাওয়া এই কলঙ্কজনক ঘটনা ইকুয়েডরের ফুটবলের গায়ে দীর্ঘস্থায়ী দাগ ফেলে গেল।