দীর্ঘ ৯৮১ দিনের নির্বাসন! ইনজুরির অভিশাপ আর মাঠের বাইরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। বুধবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে শেষ ২১ মিনিটের জন্য যখন তিনি মাঠে নামলেন, তখন তার হৃদস্পন্দন ছিল স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। গ্লোবো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তারকা অকপটে স্বীকার করলেন, আমি সত্যিই খুব নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কিছু দারুণভাবে শেষ হওয়ায় আমি গর্বিত।
মাঠের লড়াইয়ে নেইমার যেমন বিধ্বংসী, তেমনই মাঠের বাইরে তিনি প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন নিজের মানসিক শক্তির সঙ্গে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর নেইমারকে দেখা গিয়েছিল মাঠের ঘাসেই অঝোরে কাঁদতে। ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘REMEMBER WHO YOU ARE’ (তুমি কে, তা মনে রেখো)।
মজার বিষয় হলো, এই একই মন্ত্রটি সম্প্রতি ব্যবহার করেছিলেন ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের কিংবদন্তি লুইস হ্যামিল্টন। ফেরারি টিমে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া হ্যামিল্টন যখন বার্সেলোনায় নিজের প্রথম গ্র্যান্ড প্রিক্স জয়ের পর একই বার্তা দিয়েছিলেন, তখন সেই অদম্য জেদই যেন অনুপ্রাণিত করেছে নেইমারকে। বন্ধুর মতো তিনিও প্রমাণ করতে চেয়েছেন, সাময়িক ব্যর্থতা বা ইনজুরি কখনোই একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের পরিচয় বদলে দিতে পারে না।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাংসপেশী ছিঁড়ে যাওয়ায় যে ক্যারিয়ারের সূর্য অস্তমিত হতে বসেছিল, দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর নেইমার এখন নিজেকে ঘোষণা করেছেন ‘শতভাগ’ ফিট। বিশ্বকাপের এবারের আসরে প্রথম দুই ম্যাচে ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকলেও, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি তার চিরচেনা ক্ষিপ্রতার ঝলক দেখিয়েছেন।
৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এখন তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছেন। তার ফিরে আসাটা কেবল ব্রাজিলের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য এক বড় স্বস্তি।
নেইমারের এই আবেগঘন প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তির এক চরম পরীক্ষা। নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে নেইমারের এই ‘ফিরে আসা’ কি ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপার স্বাদ দেবে? হ্যামিল্টনের সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত নেইমার এখন নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন, আর ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে তার পরবর্তী জাদুর দিকে!
আনচেলত্তির কাছে নেইমারের ২০০ মিনিটের আবদার!
মেসি জানে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি: নেইমার