ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এক চরম রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল এবং এশিয়ার পাওয়ারহাউজ জাপান। আর এই হাইভোল্টেজ মহারণের আগে ফুটবল দুনিয়ায় পারদ চড়ালেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং জাপানের সাবেক প্রধান কোচ জিকো।
জাপানি ফুটবলের এই অন্যতম পথিকৃৎ মনে করেন, সামুরাই ব্লু-রা এখন বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলের চোখ ভাঙার মতো সক্ষমতা রাখে। ব্রাজিলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জিকো সোজা বলেছেন, জাপান এখন সত্যিকারের ফুটবল খেলে। নকআউটের এই ম্যাচে ব্রাজিল এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয় দেখা। এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। কাকতালীয়ভাবে, সেবার জাপানের ডাগআউটে প্রধান কোচ হিসেবে বসেছিলেন স্বয়ং জিকো এবং সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও সেই চেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নকআউটে নামার আগে এই ম্যাচটি জিকোর জন্য এক চরম আবেগের দোলাচল তৈরি করেছে। তবে নিজের সমর্থনের ব্যাপারে একদম পরিষ্কার ধোঁয়াশা কেটে দিয়ে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিকো বলেছেন, আমি অবশ্যই ব্রাজিলকে সমর্থন করবো। কারণ আমি একজন জন্মগত ব্রাজিলিয়ান। তবে যদি জাপান জিতে যায়, তাতেও আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। আমি শুধু জানি, এটি দারুণ উপভোগ্য একটি ম্যাচ হবে।
২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করে জিকো বলেন, অবশ্যই সেটা খুব আবেগের ছিল। ম্যাচের আগে আমি জাপানের খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, স্কুলজীবন থেকে আমি যেভাবে শিখেছি, ঠিক সেভাবেই মাঠের লাইনে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত গাইবো। কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মন-প্রাণ দিয়ে পুরোপুরি জাপানের পক্ষেই ছিলাম।
নিজের এই দ্বিমুখী আবেগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি দিদির কথা স্মরণ করেন, যিনি নিজে ব্রাজিলের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেরুর কোচ হিসেবে নিজের দেশ ব্রাজিলের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন।
জিকোর মতে, গত দুই দশকে জাপানি ফুটবলের যে জোয়ার এসেছে তা এক কথায় অসাধারণ। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আসরেই নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে সূর্যোদয়ের দেশটি। জিকো বিশ্লেষণ করে দেখান, জাপান এখন আর আগের মতো অনভিজ্ঞ দল নেই।
তিনি বলেন, এখন জাপান অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক দল। এক সময় যেমন ব্রাজিল ও দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়রা ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপে যেত, এখন জাপানি ফুটবলাররাও তাই করছে। বর্তমান জাপান বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জনই খেলছে বুন্দেসলিগা, সিরি আ ও প্রিমিয়ার লিগের মতো ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় লিগে!
টানা দুই বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়া জাপান যদিও এখনো কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে পারেনি, তবে জিকোর বিশ্বাস, রণকৌশল ও শক্তিতে তারা এখন যেকোনো বিশ্বজয়ীর মুখের ওপর জবাব দিতে প্রস্তুত। একদিকে হেক্সা জয়ের মিশনে থাকা ব্রাজিলের সাম্বা জাদু, অন্যদিকে ইউরোপ কাঁপানো জাপানিদের গতিশীল ফুটবল, নকআউটের এই মহাযুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব!