মাঠের লড়াইয়ে ভিএআর ট্র্যাজেডির পর এবার মাঠের বাইরের নোংরা রাজনীতি ও ভ্রমণ বিধিনিষেধ নিয়ে আমেরিকার ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই। গত শুক্রবার সিয়াটলে মিশরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জের ধরে ওয়াশিংটন ইরানের ফুটবলারদের ওপর এতটাই কঠিন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যে, গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ খেলার জন্য ইরান দলকে প্রতিবার মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় যাতায়াত বা ‘ডেইলি প্যাসেঞ্জারি’ করতে হয়েছে!
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ ঘালেনোই সাংবাদিকদের বলেন, আয়োজক দেশ (আমেরিকা) আমাদের সাথে চরম অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। তারা যদি আমাদের ম্যাচের দুই সপ্তাহ আগে আমেরিকায় আসার অনুমতি দিত, তাহলে আমরা মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে আরও অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে পারতাম। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন আমাদের সেই ন্যয্যতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছে।
আমেরিকা ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘ চার মাসের যুদ্ধকালীন চরম উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে এই ২০২৬ বিশ্বকাপেও। গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত বয়ানে বলেছিলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে এলে তাদের স্বাগত, তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের আমেরিকার মাটিতে অবস্থান করা উচিত হবে না!
আর এই অলিখিত ফরমানের কারণে ম্যাচ শেষ হতেই তড়িঘড়ি করে ইরান দলকে প্লেনে চড়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ফিরে যেতে হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের চোট থেকে রিকভারি করার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। শুক্রবারের ম্যাচের আগে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মাত্র দুই দিন আগে সিয়াটলে আসার অনুমতি পেয়েছিল পার্সিয়ানরা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সোজা খলিলজাদেহের গোলটি ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়া নিয়ে আফসোস করে ইরান কোচ বলেন, আমি আগে ভাবতাম আমরা শুধু রাজনৈতিকভাবেই অত্যাচারিত ও নিপীড়িত এক দল। কিন্তু এই তিনটি ম্যাচ খেলার পর বুঝলাম, আমাদের ভাগ্যটাও চরম কুফা! আমাদের কপালও আমাদের সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলছে। আমি ফিফার কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, ভবিষ্যতে কোনো বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যেন কোনো দলের সাথে এমন অমানবিক আচরণ করার সাহস না পায়।
ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া ও স্কটল্যান্ডের চেয়ে সমীকরণে এগিয়ে থাকা ইরান দল এখন মেক্সিকোর ক্যাম্পে বসে চাতক পাখির মতো শনি-রবির বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো শেষ ৩২-এ পা রাখার স্বপ্ন নিয়ে ঘালেনোই বলেন, ছেলেরা একটা পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে খেলতে এসেছে। যদি আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারি, তবে ওদের মানসিক শান্তির জন্য আমি পুরো একদিনের ছুটি দেব; হয়তো সমুদ্র সৈকতে গিয়ে সবাই একটু চিল করবে!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স