পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য শুরু হচ্ছে আসল ‘অগ্নিপরীক্ষা’। রাত ১১টায় টেক্সাসের হিউস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। গ্রুপ ‘সি’-র চ্যাম্পিয়ন হয়ে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল শেষ ৩২-এ পা রাখলেও, নেদারল্যান্ডসের পেছনে থেকে এফ-গ্রুপের রানার্সআপ হওয়া জাপানকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এই সামুরাই ব্লু-রা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে ওস্তাদ!
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ইতিমধ্যে চার গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। ভিনির এই বিস্ফোরক ফর্ম নিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি দম্ভ করে বলেন, এই বিশ্বকাপে ও কেমন করবে তা নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহই ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে খেলা ওর জন্য পরম সম্মানের। ও এতটাই ভালো খেলছে যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেডেও গোল করেছে, যা ওর ক্যারিয়ারে বেশ বিরল! আমি খুব ভালো করেই জানি ভিনি কী করতে পারে। ও এই মুহূর্তে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের একজন।
ভিনির সাথে ম্যাচে জাপানি ডিফেন্স ভাঙার দায়িত্বে থাকবেন মাথেউস কুনহা। তবে, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বার্সেলোনা তারকা রাফিনহার খেলা নিয়ে বড়সড় সংশয় রয়েছে।
কাগজে-কলমে ব্রাজিলের ইতিহাস সমৃদ্ধ হলেও সাম্প্রতিক অতীত কিন্তু জাপানের পক্ষেই কথা বলছে। গত বছরের অক্টোবরে টোকিও স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে এই জাপানের কাছেই ৩-২ ব্যবধানে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ব্রাজিল। সেদিন প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা এবং আয়াসে উয়েদার টর্নেডো স্ট্রাইকে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল জাপান। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা ১৪ ম্যাচের মধ্যে ওটাই জাপানের একমাত্র জয় (বাকি ১১টিতে হার, ২টিতে ড্র)।
তবে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো তাদের ‘নকআউট জুজু’। বিশ্বকাপের শেষ ৬টি নকআউট ম্যাচের ৪টিতেই হেরে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা! যদিও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ১৬-র ম্যাচে ১-০ গোলে হারার পর থেকে আর কখনো প্রথম নকআউট রাউন্ডে বিদায় নেয়নি ব্রাজিল।
অন্যদিকে, জাপানের ইতিহাস আরও করুণ; বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত চার বার নকআউট পর্বে উঠলেও প্রতিবারই প্রথম ম্যাচ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। মজার ব্যাপার হলো, জাপানকে বিদায় করা ৪টি প্রতিপক্ষের মধ্যে ৩টি দলই পরে ওই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল (২০০২ সালে তুরস্ক, ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়া)।
রাতের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের সব চোখ থাকবে অভিজ্ঞ তারকা নেইমারের ওপর। দীর্ঘ প্রায় ১০০০ দিন পর চোট কাটিয়ে গত স্কটল্যান্ড ম্যাচে বদলি হিসেবে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও রাফিনহার চোট থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে শুরু থেকেই না খেলিয়ে বেঞ্চে রাখবেন আনচেলত্তি, এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে জাপান শিবিরেও রয়েছে চোটের হানা; ডিফেন্ডার কো ইতাকুরা এবং তারকা মিডফিল্ডার তাকেফুসা কুবোর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জাপান তাদের গতি ও নিখুঁত পাসের ফুটবলের জন্য প্রশংসিত হলেও, ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, ঐতিহ্যের বিশাল চাপ আর ভিনিসিয়াসের অতিমানবীয় ফর্মের ওপর ভর করে ব্রাজিল হয়তো ২-১ ব্যবধানের একটি কষ্টার্জিত জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটবে। তবে মাঠের লড়াইয়ে সামুরাইরা যদি আবারও অঘটন ঘটিয়ে বসে, তবে হেক্সার স্বপ্ন নিয়ে আসা ব্রাজিলের কপালে যে বড় দুঃখ আছে, তা বলাই বাহুল্য!