হিউস্টনের মাঠে রাতে যখন বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, তখন ডাগআউটে থাকা ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির মনে যে ঝড় বইছে, তা তিনি নিজেই অকপটে স্বীকার করলেন।
ম্যাচের আগের দিন রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অভিজ্ঞ এই কোচ হাসতে হাসতে বলেন, ম্যাচের আগে ছেলেরা খুব ভালোভাবেই ঘুমাবে। তবে প্রধান কোচের ঘুম যে আজ হারাম হতে যাচ্ছে, তা আমি বাজি ধরে বলতে পারি! জাপানের জমাট ফুটবল আর বিদায়ের আগাম ঘণ্টা, সব মিলিয়ে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বইছে চাপা উত্তেজনা।
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে দলের প্রাণভোমরা নেইমার জাপানের বিরুদ্ধে আরও বেশি সময় মাঠ কাঁপানোর জন্য সম্পূর্ণ তৈরি। কাফ ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর গত স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য বদলি হিসেবে নেমেছিলেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।
নেইমারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আনচেলত্তি আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, গত এক সপ্তাহে নেইমারের ফিটনেসের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত গত ম্যাচে ওকে ১৫ মিনিটের বেশি খেলানো সম্ভব হয়নি, তবে এখন ও আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে এবং জাপানের বিপক্ষে আরও বেশি সময় খেলার জন্য একদম প্রস্তুত।
গত বছরের অক্টোবরে টোকিওতে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এই জাপানের কাছেই ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল ব্রাজিল। আনচেলত্তি মনে করেন, হিউস্টনের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ওই হার তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, জাপান যে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং সুসংগঠিত একটি দল, তা আমরা ওই ম্যাচ থেকেই টের পেয়েছি। ওদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান আছে। এই ম্যাচটিকে আমরা ফাইনাল হিসেবেই দেখছি, কারণ আজ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়! তাই আমাদের মন ও হৃদয়কে শক্ত রাখতে হবে। নকআউট ম্যাচে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে, অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউট (টাইব্রেকার), আমাদের সব কিছুর জন্যই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।
ম্যাচটি হিউস্টন সময় ঠিক দুপুর ১২টায় শুরু হবে, চলতি বিশ্বকাপে এমন ভরদুপুরে খেলার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের এবারই প্রথম। তবে এই সময় নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, ব্রাজিল সাধারণত দিনের এইভাগেই অনুশীলন করে থাকে, তাই খুব একটা সমস্যা হবে না।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের হট ফেভারিট কে, এমন প্রশ্নের জবাবে চতুর এই ইতালিয়ান বলেন, আমার চোখে এখনো কোনো দল একক ফেভারিট হয়ে ওঠেনি। গ্রুপ পর্বে হয়তো কিছু দল অন্যদের চেয়ে ভালো খেলেছে, কিন্তু আসল লড়াই এখন। এই বিশ্বকাপটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রতিটা ম্যাচেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামুরাই ব্লু-দের চূর্ণ করে সেলেসাওরা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে পারে কি না, নাকি আনচেলত্তির রাতের ঘুম সত্যিই হারাম হতে চলেছে, তার উত্তর মিলবে রাত হিউস্টনের মাঠেই!