বিশ্বকাপে নতুন ঠিকানার লড়াইয়ে ক্লাবহীন ১৪ তারকা

ফিফা বিশ্বকাপের পারদ যত চড়ছে, মাঠের লড়াইয়ের উত্তেজনাও ততটা ডানা মেলছে। নকআউট সব পর্বের মহানাটকীয়তা শেষে ১৯ জুলাই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে এই জমজমাট আসরের মাঝেই এক দল ফুটবলারের জন্য অপেক্ষা করছে এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর বাস্তবতা। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে ১৪ জন তারকা টেকনিক্যালি ‘বেকার’ বা ক্লাবহীন! বিশ্বকাপ শেষ হওয়া মাত্রই ফেরার মতো কোনো ক্লাবের ঠিকানা নেই এই ফুটবলারদের।

তালিকায় ক্যাসেমিরো, হামেস রদ্রিগেস কিংবা মোহাম্মদ সালাহর মতো মহাতারকাদের নাম থাকায় তাদের আর্থিক অনটন নিয়ে চিন্তার কিছু নেই ঠিকই, তবে নতুন ক্লাব বা ‘সম্ভাব্য ক্রেতাদের’ নজর কাড়তে এই বিশ্বকাপই এখন তাদের আসল মঞ্চ। আবার ক্লাবহীন অবস্থায় বড় কোনো ইনজুরিতে পড়ার এক প্রচ্ছন্ন ঝুঁকিও কিন্তু থেকে যাচ্ছে। বিবিসি স্পোর্টস বিশ্বমঞ্চে স্বপ্ন বোনা এমন কিছু হাইপ্রোফাইল ‘বেকার’ তারকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খতিয়ান খতিয়ে দেখেছে:

জন স্টোন্স, ৩২ বছর (ইংল্যান্ড): দীর্ঘ এক দশকে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ১৫টি বড় ট্রফি জেতার পর অবশেষে ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়েছেন এই ইংলিশ ডিফেন্ডার। চোটের সমস্যা থাকলেও থমাস টুখেল তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখতে ভুল করেননি। সাবেক ক্লাব এভারটন এবং ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান নাকি ইতিমধ্যেই এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে দলে ভেড়াতে তলে তলে যোগাযোগ শুরু করেছে।

ক্যাসেমিরো, ৩৪ বছর (ব্রাজিল): ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ মৌসুমটা দুর্দান্ত কাটলেও আকাশচুম্বী বেতনের কারণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাকে রিলিজ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে তার ফর্ম ওঠানামার মধ্যে থাকলেও, শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে তার করা সমতাসূচক গোলটি ছিল অমূল্য। গুঞ্জন রয়েছে, বিশ্বকাপ শেষেই তিনি লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

ডেভিড আলাবা, ৩৩ বছর (অস্ট্রিয়া): রিয়াল মাদ্রিদে ৫ বছরের সফল অধ্যায় শেষে এই গ্রীষ্মেই ক্লাব ছেড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই সাবেক তারকা। ক্যারিয়ারে ১২টি লিগ টাইটেল ও ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আলাবা ১০ বার অস্ট্রিয়ার বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন। বেশ কিছু নামী ক্লাব আগ্রহ দেখালেও, এখনো কাগজে-কলমে কোথাও সই করেননি তিনি।

ফাবিনহো, ৩২ বছর (ব্রাজিল): সৌদি প্রো লিগের দল আল ইত্তিহাদের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে লিভারপুলের এই সাবেক মিডফিল্ডারের। ইউরোপে ফেরার সুপ্ত ইচ্ছা থাকলেও ফাবিনহো জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে বদলি হিসেবে নামলেও স্কোয়াডে তার গুরুত্ব অপরিসীম।

মোহাম্মদ সালাহ, ৩৩ বছর (মিশর): অ্যানফিল্ডে সালাহর শেষ কয়েকটা মাস মোটেও সুখকর ছিল না। কোচ আর্নে স্লটের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর দুজনেই লিভারপুল ছেড়েছেন। বিশ্বকাপ শেষে ‘মিশরীয় রাজা’র সৌদি প্রো লিগে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা থাকলেও, আপাতত সালাহর পুরো মনোযোগ মিশরকে নকআউটের বৈতরণী পার করানোর দিকে।

হামেস রদ্রিগেস, ৩৪ বছর (কলম্বিয়া): এমএলএস-এর দল মিনেসোটা ইউনাইটেডের চুক্তি বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তারা এখনো তা করেনি। প্রথমার্ধে মাত্র দু’টি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া খামেসের জন্য মিনেসোটায় থাকাটা এখন বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ফলে তিন বছরের মধ্যে নিজের পঞ্চম ক্লাবের খোঁজে নামতে হতে পারে এই কলম্বিয়ান প্লে-মেকারকে।

লুকা মদ্রিচ, ৪০ বছর (ক্রোয়েশিয়া): এসি মিলানের সামনে মদ্রিচের চুক্তি আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তারা এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে। এই কিংবদন্তি বুড়ো বয়সে ক্যারিয়ার অন্য কোথাও টেনে নিয়ে যাবেন নাকি একেবারেই বুট জোড়া তুলে রাখবেন, তা সময়ই বলবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খাবি খেলেও পানামা ও ঘানার বিরুদ্ধে স্বরূপে ফিরে পর্তুগালের বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধের মঞ্চ প্রস্তুত করেছেন এই ক্রোয়াট জাদুকর।

বিশ্বকাপের আঙিনায় থাকা এই ১৪ জন ‘ফ্রি এজেন্ট’ বা ক্লাবহীন ফুটবলারদের তালিকায় আরও আছেন, নাবিল বেনতালেব (আলজেরিয়া), গিডিওন মেনসাহ (ঘানা), থমাস মুনিয়ের (বেলজিয়াম), আব্দুল মুমিন (ঘানা), ওরিয়ান নিল্যান্ড (নরওয়ে), থমাস পার্টেই (ঘানা) এবং জাভার শ্লেগার (অস্ট্রিয়া)। বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফির পাশাপাশি বল পায়ে নিজেদের ক্যারিয়ারের নতুন ঠিকানার খোঁজেও এই তারকাদের লড়াইটা তাই এবার বেশ চড়া সুরেই বাজছে!