ফুটবল আর বিনোদন দুনিয়ার মেলবন্ধন বরাবরই বেশ মুখরোচক, আর তা যদি হয় কিলিয়ান এমবাপের মতো মেগাস্টারকে ঘিরে, তবে তো কথাই নেই! ফরাসি ফুটবল সেনসেশন এমবাপ্পের মন নাকি এবার আটকেছেন নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘এলিট’-খ্যাত স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্টার এক্সপোসিতোর কাছে।
যদিও এই দুই তারকার কেউই এখনো সম্পর্কের সিলমোহর দেননি, তবে চলতি বছর একের পর এক ডেটিং এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ফাঁসের পর তাদের প্রেমের গুঞ্জন এখন টক অব দ্য টাউন। সম্প্রতি মার্কিন নামী সাময়িকী ‘এলে’-এর এক প্রতিবেদনে এই স্প্যানিশ রূপসীর ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এমবাপের সাথে তার এই রসালো সম্পর্কের নানা অজানা দিক খোলসা করা হয়েছে।

স্পেনের মাদ্রিদে ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া এস্টার এক্সপোসিতো খুব ছোটবেলাতেই থিয়েটারের মঞ্চ দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করেন। তবে ২০১৮ সালে নেটফ্লিক্সের স্প্যানিশ ড্রামা ‘এলিট’-এ কার্লা রোসোন চরিত্রে তার বোল্ড অভিনয় তাকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা বানিয়ে দেয়।

এরপর ‘সামওয়ান হ্যাজ টু ডাই’, ‘ভেনেনো’, ‘বান্দিদোস’ কিংবা হরর ঘরানার ‘ভেনাস’-এ নিজের অভিনয়ের জাদু দেখিয়ে কুড়িয়েছেন প্রশংসার পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন নিম্ফ অ্যাওয়ার্ড’। রূপ আর গ্ল্যামারের ঝড়ে কেবল পর্দা নয়, কাঁপিয়েছেন ফ্যাশন দুনিয়াও। দোলচে অ্যান্ড গাব্বানা ও বুলগারির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর এই সুন্দরীর ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার সংখ্যা ২৪ মিলিয়নেরও (২ কোটি ৪০ লাখ) বেশি!

এমবাপের সাথে তার এই রোমান্সের গল্প ডানা মেলতে শুরু করে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে। প্রথমে প্যারিসের এক বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় ডিনার ডেটের পর দু’জনকে একটি বোলিং অ্যালিতে বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এরপর আর লুকোছাপা চলেনি; ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপে ছুটি কাটানো থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে স্পেনের ইবিজা দ্বীপে তাদের রোমান্সের ছবিও ভাইরাল হয়েছে।

এই প্রেমের পিচ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন তারকা এমবাপে মুখে কুলুপ আঁটলেও, এস্টার কিন্তু গণমাধ্যমের বাউন্সার বেশ কায়দা করেই সামলেছেন। সম্পর্কের কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও হাসিমুখে তিনি বলেন, আমি এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলব না, তবে এতটুকু বলতে পারি আমি এখন খুব ভালো আছি।

মজার ব্যাপার হলো, এই ফুটবল মহাতারকার প্রেমে পড়ার আগে ফুটবল জিনিসটাই নাকি বুঝতেন না এস্টার! অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ফুটবল নিয়ে আমার জ্ঞান শূন্যের কোঠায়, আমাদের পরিবারে কেউ কোনোদিন খেলা দেখেনি। তবে হ্যাঁ, এখন এই অচেনা জগৎটাকে নতুন করে আবিষ্কার করছি এবং ধীরে ধীরে আগ্রহ জমছে।

নিজেকে শুধু স্প্যানিশ ভাষার গণ্ডিতে আটকে না রেখে ভবিষ্যতে ইংরেজি ভাষার হলিউড প্রজেক্টেও কাজ করার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই লাস্যময়ী। এখন দেখার বিষয়, ফুটবল মাঠের গতিদানব এমবাপে গ্ল্যামার দুনিয়ার এই রানীর সাথে প্রেমের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কতদূর নিয়ে যান!
