সালাহর ম্যাজিকে টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলতে মিশর!

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে এর আগে কখনোই জয়ের স্বাদ পায়নি মিশর। কিন্তু শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেন ইতিহাস লেখার জন্যই মাঠে নেমেছিল ‘ফারাও’রা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দেয় মিশর।

আর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহ। স্নায়ুচাপের চরম মুহূর্তে সালাহর সেই বিখ্যাত ‘পানেঙ্কা’ চিপ আর হোসাম আবদেলমাজিদের জয়সূচক শট মিশরকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোল বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। ওদিকে নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার অভিশপ্ত যাত্রা আরও একবার দীর্ঘায়িত হলো (৩-০)।

ছবি: সংগৃহীত
টাইব্রেকারের ঠিক আগমুহূর্তে এক চরম নাটকীয়তার জন্ম দেন অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ। পুরো ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত সব সেভ করা ২২ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে উঠিয়ে তিনি মাঠে নামান ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানকে।

১০৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রায়ানের ওপর ভরসা করে পপোভিচ নেদারল্যান্ডসের টিম ক্রুলের মতো কোনো ম্যাজিক দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জুয়া পুরোপুরি ফ্লপ! মিশরের ফুটবলাররা রায়ানের বিপক্ষে ৪টি শটের সবকটিতেই বল জালে জড়ান। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সুটার এবং লুকাস হ্যারিংটন পেনাল্টি মিস করে খলনায়ক বনে যান।

ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। কিন্তু বিরতির পর এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন মিশরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার কনর মেটক্যালফের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে মাথায় চোট পেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন হানি। কনকাশন বা মাথায় গুরুতর আঘাতের আশঙ্কায় স্ট্রেচার আনা হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। কিন্তু মাঠে থাকার খেসারত দিতে হয় তার পরেই। নিজের গোলপোস্টেই বল জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-১ সমতায় ফেরার উপহার দেন হানি!

চলতি বিশ্বকাপে এটি হানির দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল (এর আগে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও করেছিলেন)। একই সাথে এই আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে ২০১৮ বিশ্বকাপের ১২টি ওন-গোলের রেকর্ড ভেঙে চলতি বিশ্বকাপে ওন-গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩-তে!

ছবি: সংগৃহীত
টাইব্রেকারের মতো কঠিন মুহূর্তে চিপ শট বা ‘পানেঙ্কা’ নেওয়ার দুঃসাহস কেবল সালাহর মতোই কোনো জিনিয়াসের পক্ষেই সম্ভব। ম্যাচের পর সাবেক লিভারপুল তারকা সালাহ হাসতে হাসতে নিজের এই পাগলামির রহস্য ফাঁস করে তিনি বলেন, একেবারে শেষ মুহূর্তে আমি সিদ্ধান্ত নিই পানেঙ্কা শট নেওয়ার। আমি জানি না এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ কি না, তাই এই মঞ্চে কিছু একটা করতেই হতো!

দলের তরুণদের তাতানোর গল্প শুনিয়ে এই মিশরীয় রাজা আরও যোগ করেন, ম্যাচের আগেই আমি ছেলেদের বলেছিলাম, এটা তোমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আজ আমরা ইতিহাস গড়েছি।

ছবি: সংগৃহীত
নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে প্রথম নকআউট জয় পাওয়া মিশর এখন কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে। সালাহর হাত ধরে ফারাওদের এই রূপকথা এবার কতদূর যায়, সেটাই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বিশ্ব ফুটবল!