বিশ্বজুড়েই টানটান উত্তেজনা। রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, প্রতিপক্ষ ইউরোপের নতুন শক্তি নরওয়ে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সংবাদপত্র- নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রীড়া শাখা দ্য অ্যাথলেটিকের ফুটবল বোদ্ধা ও সাংবাদিকদের এক চুলচেরা বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই রাউন্ডের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটতে পারে ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচে।
ইউরোপের উদীয়মান এই দলটির কাছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারে বলে স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
দ্য অ্যাথলেটিকের এই বিশেষ আলোচনায় অংশ নেওয়া ১৩ জন শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকের মধ্যে ৭ জনই স্পষ্ট ভাষায় ব্রাজিলের বিদায়ের পক্ষে বাজি ধরেছেন। তাদের এই দাবির পেছনে মূল যুক্তি হলো, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অত্যন্ত ধারাবাহিকতাহীন ও নড়বড়ে পারফরম্যান্স এবং বিপরীতে নরওয়ের আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপ, যার নেতৃত্বে আছেন টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে পাঁচ গোল করা ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্রাজিল শুধু অতীতের ‘ঐতিহাসিক নামের ভার’ দিয়ে টিকে আছে। সাংবাদিক ডারমট করিগান তো বলেই দিয়েছেন, শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি যে, এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চেয়ে নরওয়ের আক্রমণভাগ অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভয়ংকর। ব্রাজিল ভালো ফুটবল খেলার চেয়ে মাঠের ভেতরের আবেগ আর উদ্দীপনার ওপর ভর করে কোনোমতে টিকে রয়েছে।
অন্য এক নামী সাংবাদিক টিম স্পিয়ার্স মনে করেন, ব্রাজিল রক্ষণভাগে এত বেশি গলদ ও দুর্বলতা দেখিয়েছে যে, হারানোর কিছু না থাকা নরওয়ের পক্ষে তাদের হারানো মোটেও অসম্ভব নয়।
পরিসংখ্যানের পাতায় ব্রাজিল তিন জয় ও এক ড্র নিয়ে শেষ ষোলতে পৌঁছালেও তাদের প্রতিটি ম্যাচই ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এরপর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ঘাম ঝরানো জয় পায় সেলেসাওরা।
অন্যদিকে নরওয়ে ইরাককে ৪-১ এবং সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পর রিজার্ভ বেঞ্চ নামিয়ে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারে। তবে, নকআউটের প্রথম ম্যাচে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় তারা।
স্টুয়ার্ট জেমসের মতে, নরওয়ে দুর্দান্ত বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসেছে। তাদের দলে মার্টিন ওডেগার্ড, আলেকজান্ডার সরলথ, আন্তোনিও নুসার মতো ক্ষীপ্র গতির তারকাদের পাশাপাশি হলান্ডের মতো অতিমানবীয় গোলশিকারী রয়েছে। অঘটনের সব মশলাই এই ম্যাচে মজুত আছে।
অবশ্য নরওয়ের কাছে হারের শঙ্কা থাকলেও, ব্রাজিলকে পুরোপুরি শিরোপার দৌড় থেকে বাদ দিচ্ছে না দ্য অ্যাথলেটিক। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট ফ্রান্সের রথ কে থামাতে পারে, এমন প্রশ্নে সাংবাদিক নিক মিলার কার্লো আনচেলত্তির দলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। একই সাথে তিনি মনে করেন, ভিনিসিয়ুস যেভাবে খেলছে, তাতে মেসি বা এমবাপে ফর্মে থাকলেও ভিনির সামনে গোল্ডেন বুট জেতার উজ্জ্বল সুযোগ রয়েছে।
তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, দ্য অ্যাথলেটিকের এই সাংবাদিকদের আগের কিছু ভবিষ্যদ্বাণী কিন্তু একদমই মেলেনি! গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা স্কটল্যান্ডের কাছে ব্রাজিলের হোঁচট খাওয়ার কথা বলেছিল এবং শেষ বত্রিশে জাপানের কাছে অঘটনের শিকার হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।
কিন্তু প্রতিবারই মাঠের লড়াইয়ে জিতে তাদের মুখে চুনকালি দিয়েছে সেলেসাওরা। এখন দেখার বিষয়, আজ নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হলান্ডের নরওয়ে সত্যিই অঘটন ঘটাতে পারে, নাকি আনচেলত্তির চাণক্য বুদ্ধিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে সাম্বা বয়রা!