বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের ঘামঝরানো জয়ের পর মাঠের ভেতরে তো বটেই, মাঠের বাইরেও সব আলো কেড়ে নিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। শুক্রবারের সেই রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে মিক্সড জোনে যখন মেসি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সাক্ষাৎকার দেয়ার মাঝপথেই আফ্রিকার ‘আন্ডারডগ’ দলটির ফুটবলাররা রীতিমতো ছেঁকে ধরেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। লক্ষ্য আর কিছুই নয়, ফুটবল ঈশ্বরের সাথে একটা স্মরণীয় ছবি তোলা আর তাঁর ম্যাচ উইনিং জার্সিটি আদায় করা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের এমন পাগলামি দেখে ক্যামেরার সামনেই এক ফাটাফাটি রসিকতা করে বসেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।
শনিবার প্রকাশ্যে আসা আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, মেসি ইন্টারভিউ শেষ করা মাত্রই কেপ ভার্দের একঝাঁক খেলোয়াড় তাঁকে ঘিরে ধরেন, যাঁরা মূলত মেসির প্রেস মিট শেষ হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। এই দৃশ্য দেখে আর্জেন্টিনার এক জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যমের কাছে হাসিতে ফেটে পড়ে মেসি মজা করে বলেন, ওরা আমার কাছে শার্ট, ছবি... সব কিছুই আবদার করে বসেছে! অথচ মাঠের ভেতর আমাকে উধুম পিটিয়েছে (মারধর করেছে), আর মাঠের বাইরে এসে এখন... না, না, এটা শুধু একটা কৌতুক! মেসির এই খোলামেলা ও রসাল মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
মেসির এই রসিকতার পেছনে অবশ্য মাঠের ভেতরের এক নিখাদ বাস্তবতা ছিল। পুরো ১২০ মিনিটের এই ম্যারাথন ম্যাচে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা মেসিকে আটকাতে গিয়ে অন্তত পাঁচ-পাঁচবার ফাউলের শিকার করেন, যার কারণে কপালে চোটের ফোলা দাগ নিয়েও মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে শরীরী আঘাত সত্ত্বেও ম্যাচের আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন এই ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকাই। দলের হয়ে প্রথম চোখ ধাঁধানো গোলের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার দুটি গোল এসেছে মেসির নেয়া কর্নার থেকে।
এই নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আরেক আফ্রিকান পরাশক্তি মিসরের। মঙ্গলবার আটলান্টার মাঠে সালাহদের মিসরের বিরুদ্ধে নামবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অন্যদিকে, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে বিদায় নিল কেপ ভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তিন-তিনটি সাবেক ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হয়ে স্পেন এবং উরুগুয়েকে রুখে দেওয়া আর আর্জেন্টিনার বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়া ‘ব্লু শার্কস’দের এই অদম্য যাত্রা ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিন রূপকথা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।