মেক্সিকোর প্রাচীর ভেঙে মায়ামির টিকেট পেলো ইংল্যান্ড

বজ্রঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি আর এস্তাদিও আজতেকার উন্মত্ত পরিবেশ—সব প্রতিকূলতা জয় করে মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ১৯৬৬ সালের পর নকআউট পর্বে অন্যতম সেরা জয় তুলে নিল থ্রি লায়ন্সরা। আগামী শনিবার মায়ামিতে সেমিফাইনালের টিকেটের লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ শুরু হতেই বিলম্ব হয় এক ঘণ্টা। ড্রেসিংরুমের সেই স্নায়ুচাপ কাটিয়ে মাঠে নেমেই অবশ্য জাদুকরী পারফরম্যান্স উপহার দেন জুড বেলিংহ্যাম। এই রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে বিরতির ঠিক আগেই হুলিয়ান কিনোনেসের গোল ম্যাচ জমিয়ে তোলে (২-১)।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে বড়ো ধাক্কা খায় টুখেলের দল। একটি বাজে ফাউলের অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসাহ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর চড়াও হয় মেক্সিকো। এর মধ্যেই পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড, যা থেকে গোল করতে ভুল করেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এটি চলতি বিশ্বকাপে কেইনের ষষ্ঠ এবং ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে মৌসুমে ৭৩তম গোল।

৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি মেক্সিকো। ঘরের মাঠে টানা চার ম্যাচ জিতে আসা হাভিয়ের আগুইরের দল পেনাল্টি থেকে রাউল হিমেনেজের গোলে ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে আনে। ম্যাচের শেষ দিকে ৫-৩-১ ফর্মেশনে রক্ষণাত্মক দেয়াল তুলে জীবন বাজি রেখে মেক্সিকোর আক্রমণ সামলায় ইংলিশরা। শেষ বাঁশি বাজতেই যেখানে সবুজ জার্সিধারী মেক্সিকান ফুটবলাররা হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন, সেখানে বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড। সহ-স্বাগতিক মেক্সিকোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আজতেকার এক মহাকাব্যিক লড়াই।