বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে স্পেন। মিকেল ওয়ারজাবালের জোড়া গোল আর পেড্রো পোরোর এক গোলে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের দখলে।
বল দখল, পাসিং ও আক্রমণে প্রতিপক্ষকে পুরো ম্যাচজুড়েই চাপে রেখেছিল স্পেন। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ স্পেনের গতি ও ধারালো আক্রমণের সামনে বারবার অসহায় হয়ে পড়ে। গোল বাতিল হওয়া এবং একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল।
প্রথমার্ধের শুরুতে স্পেন একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। লামিন ইয়ামালের কর্নার থেকে মার্ক কুকুরেয়ার প্রচেষ্টা জালে জড়ালেও পও কুবারসির ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। পরে ওয়ারজাবালের নিচু শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার।
তবে ৩৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। পেড্রির পাস থেকে কুকুরেয়ার নিখুঁত ক্রসে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ইয়ামালের গতিময় উইং প্লে অস্ট্রিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। অ্যালেক্স বায়েনার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর ফিরতি বলে ইয়ামালের শটও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন শ্লাগার।
অন্যদিকে পুরো প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রিয়া।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ম্যাচে ফেরার আশায় সাসা কালাইজিচ ও মার্কো আরনাউটোভিচকে নামায় অস্ট্রিয়া। মাঠে নেমেই কালাইজিচের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। অ্যালেক্স বায়েনার ক্রসে পেড্রো পোরোর হেডে জালে বল জড়ায়। স্পেনের জার্সিতে এটি ছিল পোরোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
এরপরও একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ইয়ামালের নিশ্চিত গোলের শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডেভিড আলাবা। তবে শেষ মুহূর্তে আর ভুল করেননি ওয়ারজাবাল। ৮৯ মিনিটে কুকুরেয়ার নিখুঁত ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও উন্নতির সুযোগ দেখছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, আমরা অসাধারণ একটি ম্যাচ খেলেছি। আমি খুবই খুশি, কারণ প্রায় সব দিক থেকেই আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। তবে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। প্রতিটি ম্যাচে নতুন চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছি।
দাপুটে জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা স্পেনের সামনে এবার অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা—রোনাল্ডোর পর্তুগালের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ লড়াই।
দারিদ্র্য আর খরাক্লিষ্ট কেপ ভার্দের ফুটবল মহাকাব্য!
কেপ ভার্দের বিপক্ষে যে কৌশলে খেলবে আর্জেন্টিনা!