ব্যালন ডি’অরের হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিলো বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের বছর মানেই ব্যালন ডি’অরের হিসেব-নিকেশ পুরো ওলটপালট হয়ে যাওয়া! ক্লাব ফুটবলে অগাস্ট থেকে মে মাস পর্যন্ত কে কেমন অতিমানবীয় পারফর্ম করল, ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে তার মূল্য যেন এক নিমেষেই ফিকে হয়ে যায়, যখন মঞ্চে হাজির হয় বিশ্বকাপ।

বিশ্বমঞ্চের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের দাঁড়িপাল্লায় চূড়ান্ত রায় দেয়। ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। নক-আউটের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো এখনো বাকি, অথচ এর মাঝেই ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের রেস সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। বেটফেয়ারের সাম্প্রতিক ডেটা বলছে, কারোর ভাগ্য এখন আকাশচুম্বী, আবার কেউবা রাজপথ থেকে একেবারে ফুটপাতে!

Messi 02
সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা ছিল শুধুই ০.৯৭%, অর্থাৎ ১ শতাংশেরও কম; এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অতিমানবীয় প্রত্যাবর্তনের পর তা একলাফে ১০.৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে!

সহজ ভাষায়, নিজের সম্ভাবনাকে তিনি ১০ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে নিয়েছেন, যা শতাংশের হিসেবে ৯৬৬ শতাংশ উত্থান! মাসখানেক আগেও যে মেসির নবম (৯ম) ব্যালন ডি’অর জেতার ভাবনা 'কাকতালীয়' মনে হচ্ছিল, তা এখন পুরোপুরি টেবিলের সামনে। মেসি এখন এই রেসের শীর্ষ পাঁচ নম্বরে চলে এসেছেন। আর্জেন্টিনা যত দূর যাবে, মেসির দাবি তত জোরালো হবে।

Harry Kane 01
হ্যারি কেইন এখনো ২২.২৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে ব্যালন ডি’অরের প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও তিনি ২০.১১ শতাংশ নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে কেইনের রাজত্বে আসল কাঁপুনিটা ধরাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব সিজনে খানিকটা নিষ্প্রভ থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে ৭ গোল দিয়ে যেন সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার জেতার সম্ভাবনা ৪.৩৬ শতাংশ থেকে একলাফে ১৯.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে! কেইনের চেয়ে তিনি এখন মাত্র ৩ শতাংশ পিছিয়ে আছেন।

মজার ব্যাপার হলো, কেইন আর এমবাপে, এই দুজনের পকেটেই এখন ব্যালন ডি’অরের ৪১ শতাংশের বেশি ভাগ্য লুকিয়ে আছে।

France Kylian Mbappe 03
বিশ্বকাপের ছোঁয়া পেয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আরও কিছু ঝিমিয়ে পড়া নাম। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে হতাশাজনক সিজন কাটানো জুড বেলিংহাম ০.৬৪ শতাংশ থেকে একলাফে ৪.২৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে সেরা দশে ঢুকে পড়েছেন (৫৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি)।

অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে সাত গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে টেনে তোলা আর্লিং হালান্ডের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী, ১.৯২ শতাংশ থেকে তার সম্ভাবনা এখন ৬.৫৯ শতাংশ। তালিকায় মাইকেল অলিসও ১২.০৬ শতাংশ নিয়ে ওপরের দিকে উঠছেন।

বাদ যাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (০.৮০% থেকে ২.৭৯%) এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রও (০.৯৭% থেকে ২.১৩%), বিশ্বমঞ্চের পারফরম্যান্সের জোরে তারাও রেসে টিকে থাকার লড়াই করছেন।

Norway Erling Haaland
মুদ্রার ওপিঠও আছে। ক্লাব ফুটবলের দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসে যারা ফ্লপ হয়েছেন, তাদের ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন এখন সুদূর পরাহত। সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে ডেক্লান রাইসের ভাগ্যে; ১০.৮৯% থেকে তার সম্ভাবনা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৪৫ শতাংশে (৬৮% পতন)!

একইভাবে গ্রাফ তলিয়ে গেছে কাভারাতসখেলিয়া (৭.২৬% থেকে ৪.৮৩%), রাফিনহা (১.২৮% থেকে ০.৮৯%), দেম্বেলে (১৪.৫২% থেকে ১২.০৬%) এবং আলভারেজের (১.২৮% থেকে ১.০৮%)।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে পিএসজি শিবির। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেরা ১০ জন দাবিদারের মধ্যে পিএসজিরই ছিল ৫ জন ফুটবলার (দেম্বেলে, অলিস, কাভারাতসখেলিয়া, ভিটিনহা এবং দুয়ে)। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যারা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণ করতে পারছেন, শুধু তারাই টিকে আছেন; বাকিদের স্বপ্ন এখন হিউস্টন বা মেক্সিকো সিটির মাঠেই সমাহিত!

তথ্যসূত্র: মারকা