মরক্কো একাদশ: সাইবারিকে ছাড়াই ফ্রান্স বধের ছক!

বিশ্বকাপের শেষ আটে আবারও ফিরে এসেছে মরক্কোর ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা! কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা যে কোনো ফ্লুক বা দুর্ঘটনা ছিল না, তা এবার আমেরিকার মাটিতে বুক চিতিয়ে প্রমাণ করে দিল আফ্রিকার পরাশক্তি। শেষ ১৬-তে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টারে পা রেখেছে তারা।

আর এবার তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আসরের অন্যতম হট-ফেভারিট ফ্রান্স। চার বছর আগে কাতারের মাটিতে এই ফরাসিদের কাছেই সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর, তাই বস্টনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আসলে মরক্কানদের জন্য এক মহাকাব্যিক প্রতিশোধের মঞ্চ।

তবে এই মেগা ম্যাচের আগে মরক্কো শিবিরে লেগেছে বড় এক চোটের ধাক্কা। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে মারাত্মক হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে গেছেন দলের অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক অস্ত্র ইসমাইল সাইবারি।

সাইবারির এই ছিটকে যাওয়া মরক্কোর হেড কোচ মোহামেদ ওয়াহবির জন্য এক মস্ত বড় মাথাব্যথার কারণ। তবে এই ধাক্কা সামলাতে বাধ্য হয়েই আক্রমণে এক বড় রদবদল করতে হচ্ছে তাঁকে।

আক্রমণভাগের এই শূন্যস্থান পূরণে মরক্কো কোচের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন সুফিয়ান রাহিমি। কানাডার বিরুদ্ধে বদলি নেমে দুর্দান্ত এক গোল করে রাহিমি এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছেন। তাই ফরাসি ডিফেন্স ভাঙতে সাইবারির জায়গায় আজ শুরু থেকেই মাঠে নামবেন এই গতিময় ফরোয়ার্ড।

মরক্কোর এই দলটির মূল শক্তিই হলো তাদের ইস্পাত কঠিন রক্ষণভাগ, মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর ক্ষিপ্র গতির কাউন্টার-অ্যাটাক। কাগজের কলমে ফ্রান্স ফেভারিট হিসেবে নামলেও, মরক্কোর এই দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙা এমবাপেদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

রাতের এই মহা-লড়াইয়ে মরক্কো তাদের সেই চেনা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনেই দল সাজাতে যাচ্ছে। গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন অভিজ্ঞ ইয়াসিন বুনু। ডিফেন্সে ডানদিক থেকে নেতৃত্ব দেবেন বিশ্বসেরা রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি, সাথে থাকছেন দিওপ, হালহাল এবং বাঁ-দিকে নুসাইর মাজরাউই। মাঝমাঠের ইঞ্জিন সচল রাখবেন তরুণ তুর্কি আয়ুব বুয়াদ্দি এবং নেইল এল আয়নাউই।

আর আক্রমণে গোল বানানোর মূল কারিগর হিসেবে থাকছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ, আজুদিন উনাহি এবং বিলাল এল খানোস। তাদের ঠিক ওপরে ফরোয়ার্ড লাইনে একাই ফরাসি ডিফেন্সের ত্রাস হতে লড়বেন সুফিয়ান রাহিমি। মরক্কো হয়তো আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামবে, কিন্তু ফুটবল বিশ্ব জানে, এই ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা যখন গর্জে ওঠে, তখন যেকোনো পরাশক্তিই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে!