একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন এমবাপে

বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোকে দুই গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রেখেছে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। আর এই জয়ের পর পরিসংখ্যানের খেরোখাতা উল্টালে চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য! প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকা ফ্রান্সের এক্সজি বা এক্সপেক্টেড গোল ছিল ১.৮৭, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথমার্ধে গোল না পাওয়া যে কোনো দলের চেয়ে সর্বোচ্চ।

এর একটি বড় কারণ অবশ্য কিলিয়ান এমবাপ্পের মিস করা পেনাল্টি। মরক্কোর বাজপাখি ইয়াসিন বুনো এমবাপের শটটি আটকে দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। শুট-আউটসহ বিশ্বকাপে ফেস করা ৯টি পেনাল্টির মধ্যে বুনোকে পরাস্ত করা গেছে মাত্র দু’বার! তিনি ৪টি পেনাল্টি সেভ করেছেন, যা ১৯৬৬ সালের পর যে কোনো গোলরক্ষকের জন্য যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

France Win 02
তবে পেনাল্টি মিস করলেও এমবাপ্পে এক ঘণ্টার মাথায় গোল করেন এবং তার ছয় মিনিট পর উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে গোল করান। ফুটবল ইতিহাসে গত ৬০ বছরে একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট এবং পেনাল্টি মিস করার রেকর্ড আছে মাত্র চারজনের।

যার মধ্যে দুটি ঘটনাই ঘটল গত তিন দিনে, প্রথমে মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসি এবং এবার মরক্কোর বিপক্ষে এমবাপ্পে! বিশ্বকাপে একই ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট করার কীর্তি এমবাপে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার দেখালেন, যেখানে তাঁর ওপরে আছেন শুধু মেসি (৫ বার)।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সেই বিখ্যাত ‘থ্রি-আর’ (রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহো) ত্রয়ীর রেকর্ডকেও পেছনে ফেলেছেন এমবাপে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিস। ২০০২ সালে ব্রাজিলের ত্রয়ী মিলে ২০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন, আর এবার ফরাসি ত্রয়ী এখনই ২৩টি গোলে অবদান রেখে ফেলেছেন!

France Win 01
চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ৮টি। অ্যাসিস্টের টাইব্রেকারে (এমবাপের ৩টি, মেসির ১টি) তিনি আবারও লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের শীর্ষস্থান দখল করেছেন। দেম্বেলে তাঁর ক্যারিয়ারের ৫ম বিশ্বকাপ গোলটি পেয়েছেন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর ৫টি গোলই এসেছে এবারের আসরে। এমবাপ্পে (৮) এবং দেম্বেলে (৫) এখন ২০০২ সালের রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথম দুই সতীর্থ, যারা একই বিশ্বকাপে ৫ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন।

এমবাপ্পে এখন বিশ্ব ফুটবলের এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন যেখানে রেকর্ড ভাঙাটাই তাঁর স্বভাব। ১৯৬৬ সালের পর তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন (২০২২ সালে ১০টি, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১১টি)।

France Win 03
তাঁর এই ১১টি গোল কন্ট্রিবিউশন ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের (১৩টি) পর এক আসরে সর্বোচ্চ। এছাড়া ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে নেয়ার পর ইউরো ২০২০ আসরের সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর প্রথম স্পট-কিক মিস করলেন তিনি। তবে এই ম্যাচেই তিনি প্রথম ফরাসি খেলোয়াড় হিসেবে দেশের হয়ে ১০০-এর বেশি গোলে অবদান রাখার (৬৪ গোল, ৩৭ অ্যাসিস্ট) অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করল। এটি ফরাসিদের ৮ম সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া আর্জেন্টাইন রেফারিদের অধীনে ফ্রান্সের জয় এখন ৬টি, যা যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপে এটি ফ্রান্সের ৪৫তম জয়, যার মাধ্যমে তারা ইতালির সাথে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে বসল।