ইনজুরি শঙ্কা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন এমবাপে

মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফরাসি শিবিরে যে ইনজুরি আতঙ্ক ভর করেছিল, তা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন স্বয়ং অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে! ম্যাচের ৭৭ মিনিটে গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার সময় এবং পরবর্তীতে ডাগআউটে ডান পায়ে বরফ বেঁধে বসে থাকতে দেখে ফরাসি সমর্থকদের বুক কেঁপে উঠেছিল। তবে ম্যাচ শেষে সব শঙ্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুচকি হেসে এমবাপ্পে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, আমি একদম ঠিক আছি!

ম্যাচ চলার সময় বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে চোট পাওয়ার পর মাঠের ভেতরেই ফিজিওথেরাপিস্টের সেবা নেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় জিন-ফিলিপ মাতেতাকে। মাঠ ছাড়ার সময় এমবাপ্পের চোখেমুখে চরম কোনো ব্যথার ছাপ ছিল না, বরং গ্যালারির করতালির জবাব দিতে দিতেই তিনি মাঠ ছাড়েন।

Mbappe 02
ম্যাচ শেষে নিজের চোট নিয়ে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, আমার গোড়ালিতে সামান্য একটা টোকা লেগেছিল, তবে এখন সব ঠিক আছে। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে আমার চেয়ে জেপি (মাতেতা) মাঠে অবদান রাখার জন্য বেশি উপযুক্ত ছিল। এমনকি ইএসপিএন’র একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, এমবাপের গোড়ালি নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম ও মাঠে সতীর্থদের সাথে তাঁর বুনো উদযাপন ও চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি কতটা ফিট!

মরক্কো দলের বড় একটা অংশের জন্ম ফ্রান্সে হওয়ায় দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কটা বেশ মধুর। বিশেষ করে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি পিএসজিতে এমবাপ্পের সাবেক সতীর্থ এবং ভীষণ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে বন্ধুত্বের খাতিরে মাঠে কোনো ছাড় দেননি কেউই।

এমবাপে তাঁর ফরাসি মানসিকতা খোলসা করে বলেন, এখানে কোনো সেন্টিমেন্টের জায়গা নেই। আমি এখানে জিততে এসেছিলাম, ও-ও (হাকিমি) জিততেই এসেছিল। তবে এটা সত্যি যে, ম্যাচ শেষে যখন ওর ড্রেসিংরুমে যাব, তখন বুকটা একটু কেঁপে উঠবেই; কারণ সে আমার অত্যন্ত কাছের একজন বন্ধু।

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার ধাক্কা সামলে দ্বিতীয়ার্ধে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোলটি তুলে নেন ফরাসি অধিনায়ক। এর ঠিক ছয় মিনিট পর উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে করান আরেকটি গোল, যা টুর্নামেন্টে তাঁর তৃতীয় অ্যাসিস্ট।

France Win 01
এই গোলের মাধ্যমে লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের শীর্ষস্থান এককভাবে নিজের দখলে নেয়ার পাশাপাশি ১৯৬৬ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার নজিরবিহীন রেকর্ড গড়লেন এমবাপ্পে (২০২২ সালে ১০টি এবং ২০২৬ সালে ১১টি)। এক আসরে তাঁর এই ১১টি গোল কন্ট্রিবিউশন ১৯৭০ সালে জার্মানির কিংবদন্তি জার্ড মুলারের পর আর কোনো ফুটবলার করে দেখাতে পারেননি।

আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে মেগা সেমিফাইনালে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। শেষ চারের মহালড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এমবাপ্পে বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। তবে আমরা জানি সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে এবং আমরা যে কোনো কিছু ফেস করতে প্রস্তুত। এখন আমরা ভালোভাবে রিকভারি করব এবং ম্যাচটি দেখব আমাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে তা জানতে।