ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেন নীল জার্সি পড়তে চায় আর্জেন্টিনা?

বুধবারের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে মাঠের যুদ্ধ তো শুরু হয়েছেই, তবে এবার মাঠের বাইরের এক মনস্তাত্ত্বিক চাঞ্চল্যকর চাল দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল আর্জেন্টিনা! আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে থ্রি-লায়ন্সদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিশ্বস্ত সূত্র জানা গেছে, ফিফার দোরগোড়ায় এক বিশেষ ও গোপন আবদার জমা দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গ্যাস্টন এদুলের দেওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচে নিজেদের চেনা ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা স্ট্রাইপের জার্সিটি তুলে রেখে, সম্পূর্ণ গাঢ় নীল রঙের বিকল্প জার্সি পরে মাঠে নামার জন্য ফিফার কাছে অফিশিয়াল অনুরোধ পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন।

ফুটবল রোমান্টিকদের মনে এই ‘নীল জার্সি’র নাম শুনলেই ঝিলিক দিয়ে উঠবে ৪০ বছর আগের সেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল! মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়ামে ঠিক এই গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরেই ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা তাঁর সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা একক গোল দিয়ে ইংল্যান্ডের বুক চুরমার করে দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের সেমিফাইনালে এসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যখন আবারও সেই একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি, তখন জার্সির রঙে ম্যারাডোনার সেই ভূত ইংলিশদের ঘাড়ে সওয়ার করতে স্কালোনির এই গোপন চাল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপে খেলা ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই মেসিরা তাঁদের চিরাচরিত আকাশী-সাদা জার্সি পরে মাঠে নামলেও, একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল গত ২৮ জুনের গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি। জর্ডানের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা এই অল-ব্লু কিট পরেই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল। আর এবার নকআউটের সবচেয়ে বড় মহারণে হ্যারি কেইনদের চাটনি বানাতে সেই ‘লাকি’ ও ঐতিহাসিক নীল জার্সিই ফেরত চাইছে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, চলতি বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের রেসে আগুন ঝরানো ৩৯ বছর বয়সী বুড়ো লিওনেল মেসি কেরিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চ লুকাতে পারছেন না।

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে শেষ চারে ওঠার পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের যা কিছু স্মৃতি আমার মনে আছে, তা শুধু ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে, যা আমরা আর্জেন্টাইনরা প্রতিনিয়ত বারবার দেখি এবং নতুন করে বাঁচি। তবে আমাদের এই বর্তমান দলটা প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে বাড়তি চাপ নেয় না।

নিজের ব্যক্তিগত উত্তেজনা প্রকাশ করে এলএমটেন আরও যোগ করেন, ব্যক্তিগতভাবে এই প্রথম আমি ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ফুটবল বিশ্বে আমি ইংল্যান্ড ছাড়া আর সব বড় শক্তির মুখোমুখি হয়েছি। তাই এই ম্যাচটা অন্যরকম সুন্দর। আমরা বিশ্বমঞ্চে একটা সেরা দলের বিরুদ্ধে নামছি এবং নিজেদের সেরা ফর্মে থেকেই লড়াইটা লড়ব।

১৯৮৬ সালের সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত, ম্যারাডোনার জাদুকরী গোল আর ড্রেসিংরুমের তীব্র রাজনৈতিক উন্মাদনার মাঝে আর্জেন্টিনার এই ‘নীল জার্সি’র আবেদন বুধবারের ম্যাচকে ফুটবল থেকে এক মহাকাব্যিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ দিয়েছে। ফিফা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার এই স্পেশাল আবদারে সিলমোহর দেয় কি না, আর মাঠের বুট জোড়ায় মেসি দিয়েগোর সেই নীল রূপকথা ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!