আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মহাযুদ্ধের বাঁশি বাজার আগেই বাইরে শুরু হয়ে গেছে আসল রণক্ষেত্র! ২ বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালের কিক-অফের আগেই ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এখন ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো টগবগ করে ফুটছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টাইনদের কাছে যা ‘মালভিনাস’) নিয়ে ১৯৮২ সালের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তিক্ততা মাঠের সবুজ গালিচায় আছড়ে পড়তে এবার বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি। মাঠের লড়াই শুরুর অনেক আগেই দু’দেশের মারকুটে ভক্তরা একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, স্লোগান আর হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, মাঠের বাইরের এই বৈরিতার আগুন থামাতে শেষমেশ সংবাদ সম্মেলনে এসে আসরে নামতে হয়েছে স্বয়ং আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

এই চরম উত্তেজনার পারদ কিন্তু গত সপ্তাহান্তেই চড়তে শুরু করেছিল। মায়ামির রাস্তায় নরওয়েকে হারিয়ে হ্যারি কেনদের অন্ধ ভক্তরা যখন উল্লাস করছিলেন, তখনই ল্যাটিন ও আর্জেন্টাইন প্রবাসীদের সাথে তাঁদের তুমুল ধস্তাধস্তি ও মারামারি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই কানসাস সিটিতে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচ জুড়েই গ্যালারি থেকে আর্জেন্টাইনরা ব্রিটিশদের ধুয়ে দিয়ে গান গেয়েছেন, আর ম্যাচ শেষে সেই আগুন ড্রেসিংরুমে গিয়ে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটায়! আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে বুক চাপড়ে সমস্বরে গেয়ে ওঠেন, মালভিনাসের জন্য, ডিয়েগোর জন্য, আর লিওর (মেসি) শেষ বিশ্বকাপের জন্য!
১৯৮৬ সালের সেই আলোচিত ও ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরবর্তী শতাব্দীসেরা গোলের ক্ষত যে ইংলিশদের বুকে আজও টাটকা, তা এই গানে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে। তবে মাঠের বাইরে সমর্থক ও ড্রেসিংরুমের এই রাজনৈতিক বারুদকে ঠান্ডা করতে হেড কোচ লিওনেল স্কালোনি কড়া বার্তা দিয়েছেন। প্রি-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই ম্যাচটিকে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখা উচিত, যেখানে প্রতিপক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া।

রাজনৈতিক উত্তেজনা যতই থাকুক না কেন, স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে সমর্থকদের এই উগ্র আচরণ যে বিশ্বকাপের মূল চেতনা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন স্কালোনি। একই সাথে তিনি প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের ম্যানেজার থমাস টুখেল-এর রণকৌশল ও ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। স্কালোনি ও টুখেল মাঠের লড়াইকে স্রেফ ফুটবলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইলেও, ফকল্যান্ডের জখম আর ম্যারাডোনার স্মৃতি নিয়ে আটলান্টার রাস্তায় যে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে, তা বুধবারের সেমিফাইনালকে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রূপ দিচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
