টুখেলকে ধুয়ে দিলেন ফুটবল পন্ডিত ট্রাম্প!

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের নাটকীয় ও হৃদয়বিদারক হারের পর ফুটবল দুনিয়ায় যখন তুমুল সমালোচনা চলছে, তখন সেই আগুনে ঘি ঢাললেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো পোড়খাওয়া ফুটবল বোদ্ধার মতো সুর চড়িয়ে ইংল্যান্ডের মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক ট্যাকটিকস নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর টুখেল দলকে পুরো ‘বাস পার্ক’ করানোর মতো রক্ষণাত্মক খোলসে বন্দি করে ফেলেন। আর, সেই সুযোগে শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির জাদুতে জোড়া গোল করে ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তেরা। নিউ ইয়র্কে ফিফার এক জমকালো অনুষ্ঠানে এসে টুখেলের এই অদ্ভুত চাল নিয়ে রীতিমতো খোঁচা দেন ট্রাম্প।

Trump & Fifa 02
নিজের গলফ খেলার সঙ্গী তথা ইংলিশ কাপ্তান হ্যারি কেনের উদাহরণ টেনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইংল্যান্ড দলে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছেন, যার সাথে আমি গলফ খেলেছি, ও অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু আমার মনে হয় ও গোল দেওয়ার পর ওকে ডিফেন্ডার বানিয়ে টুখেল একটা মস্ত বড় ভুল করেছেন।

নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রসিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, আরে ভাই, আমি ফুটবলের (সকার) কী-ই বা বুঝি! কিন্তু আপনারা ম্যাচে লিড নিলেন, আর লিড নেওয়ার পরপরই আপনাদের সেরা স্ট্রাইকারকে টেনে নিয়ে রক্ষণে বসিয়ে দিলেন! আমাদের একটু আক্রমণাত্মক (অফেন্সিভ) হওয়া উচিত, তাই না? তবে আমি তো আর কোচ নই, কোচিংয়ের আমি কী বুঝি! কিন্তু যা ঘটেছে তা সত্যিই বড্ড অদ্ভুত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে যখন ট্রাম্পের এই কড়া সমালোচনার কথা থমাস টুখেলকে জানানো হয়, তখন জার্মান বস প্রথমে হেসেই কূল পাচ্ছিলেন না। কিছুটা বিদ্রুপের সুরে টুখেল পাল্টা প্রশ্ন করেন, তা আপনারা কি এখন আমার বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন নাকি? আমি জাস্ট জানতে চাচ্ছি!

England Coach Thomas Tuchel 1
হাসি থামিয়ে অবশ্য নিজের রণকৌশলকে বেশ জোরের সাথেই ডিফেন্ড করেছেন এই ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, আমরা পুরো দল মিলে যখন একটা ‘ডিপ ব্লক’ তৈরি করে খেলছিলাম, তখন স্বাভাবিকভাবেই দলের সবাইকে একসাথে ডিফেন্ড করতে হয়। প্রতিপক্ষ যখন আমাদের চেপে ধরে পেছনে ঠেলে দেবে, তখন হ্যারি কেনও সেই ডিপ ব্লকে এসে ডিফেন্ডারের ভূমিকাই পালন করবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

টুখেল যতই সাফাই গান না কেন, ম্যাচ শেষের পর থেকেই ব্রিটিশ মিডিয়া ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছেন। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় হুট করে পাঁচ ডিফেন্ডার (ব্যাক ফাইভ) নামানো এবং রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বদল করার সিদ্ধান্তটিই মূলত কাল হয়েছে ইংল্যান্ডের জন্য।

টুখেলের এই চরম আত্মঘাতী ভুলের সুযোগ নিয়ে মাঝমাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের পকেটে পুরে নেন লিওনেল মেসি। আর মেসির সেই জাদুকরী তাণ্ডবের কাছেই শেষ পর্যন্ত চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় ৬০ বছর পর ইংলিশদের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। মাঠের লড়াই শেষ হলেও ট্রাম্পের এই ‘সাউসি’ বা রসালো মন্তব্য যে টুখেলের কাঁটা গায়ে নুনের ছিটে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য!