বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের বাঁশি বাজার আগেই রাজনীতির মাঠে জমে উঠেছে এক চরম রসালো নাটক! মেক্সিকান গণমাধ্যম ও জার্মান প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আমন্ত্রণে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ দেখতে হাজির হচ্ছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম।
আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজক হলেও মেক্সিকোর সাথে আমেরিকার বর্তমান বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক একেবারেই সাপে-নেউলে। এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মুখোমুখি দেখা হয়েছিল মাত্র একবার, গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে।
এই বৈরি সম্পর্কের বরফ গলাতেই ট্রাম্পের এই বিশেষ দাওয়াত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। শুধু শিনবাউমই নন, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সেখানে হাজির থাকছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও।

প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউমের এই আকস্মিক ফাইনাল যাত্রায় মেক্সিকোর অন্দরেই বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ, গত ১১ জুন নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার সরাসরি আমন্ত্রণ তিনি হেলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন!
নিজের ভিআইপি টিকিটটি তিনি উপহার দিয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমী এক আদিবাসী নারীকে। অথচ ট্রাম্পের এক ডাকেই নিজের মেক্সিকান রাজ্য কুইন্টানা রু’র সব পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফরসূচি পরিবর্তন করে নিউ ইয়র্কের বিমানে চড়ে বসছেন শিনবাউম! একেই হয়তো বলে ক্ষমতার আসল রসায়ন।
রোববারের মেগা ফাইনালে লা রোজাদের উৎসাহ দিতে গ্যালারিতে হাজির থাকছে পুরো স্প্যানিশ রাজপরিবার। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, রানী লেটিজিয়া, ক্রাউন প্রিন্সিপাল লিওনোর এবং ইনফান্তা সোফিয়া, সবাই সশরীরে উপস্থিত থেকে স্পেনের জন্য গলা ফাটাবেন।

কিন্তু ঠিক উল্টো চিত্র আর্জেন্টিনা শিবিরে! ফুটবলপ্রেমী হয়েও নিজের চোখের সামনে দেশের এই ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। কোনো রাজনৈতিক ব্যস্ততা নয়, এর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত ‘কুসংস্কার’!
আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালাস’ নামক এক অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের চরম প্রচলন রয়েছে। অনেক ভক্তই মনে করেন, মাঠে গিয়ে খেলা দেখলে দল হেরে যেতে পারে, তাই তারা সবসময় একই স্থানে বা একই পোশাক পরে ম্যাচ দেখেন। দেশের কোটি ভক্তের মতো আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই-ও এই ‘কাবালাস’-এর ভূত মাথায় নিয়ে স্টেডিয়ামে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে তাঁর উপস্থিতির কারণে লিওনেল মেসিদের কোনো অমঙ্গল না হয়!
একদিকে ট্রাম্পের পাশে মেক্সিকান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক চা-চক্র, অন্যদিকে গ্যালারিতে স্প্যানিশ রাজপরিবারের আভিজাত্য আর টিভির পর্দায় চোখ রেখে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কুসংস্কারের প্রার্থনা—সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনালটি মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এক চরম নাটকীয় রূপ নিয়েছে!
