‘যে শিশুকে কোলে নিয়েছিলাম সে-ই আমার শত্রু’

রোববার রাতে বিশ্বকাপ ফাইনালের কাউন্টডাউন যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠের বাইরের আলোচনাগুলো ততই সরালো ও নাটকীয় রূপ নিচ্ছে। তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় এখন ঝড় তুলেছে লিওনেল মেসি ও স্পেনের তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের মধ্যকার এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ।

ফাইনালের ঠিক আগে নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে এসে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি নিজেই পুরো বিষয়টিকে ‘পাগলামি’ ও ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, বহু বছর আগে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা এক ঐতিহাসিক ছবিতে যে শিশুটিকে মেসি নিজ হাতে গোসল করিয়ে কোলে নিয়েছিলেন, আজ ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই মেসিই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সেই ছেলের!

ইএসপিএন-এর বরাতে মেসি বলেন, লামিনের সাথে ওই ছবিটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ও যখন একটা ছোট্ট কোলের শিশু, তখন আমাদের একসাথে ছবি তোলা হয়েছিল। আর, আজ আমরা বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে! জীবন যে কীভাবে আমাদের আবার এক বিন্দুতে এনে মেলাল, তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। এটা শুধুই পাগলামি!

Messi-Yamal 01
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা ১৯ বছর বয়সী বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের ভূয়সী প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি। তবে ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ তিনি। মুখে চওড়া হাসি নিয়ে মেসি বলেন, আমরা মাঠে একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে চাই। তবে আমার আন্তরিক প্রার্থনা, লামিন এবং ওর পুরো দল যেন রোববার কোনোভাবেই ভালো খেলতে না পারে! আমরা ওদের বোতলবন্দী করে রাখার সব রকম চেষ্টা করব।

মেসি আরও যোগ করেন, এত কম বয়সেই ও বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন। ও ভালো করলে তা আমার প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনার জন্যই ভালো, তাই ওর জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে। কিন্তু এই ফাইনালে ওকে আমরা এক চুলও জায়গা দেব না। স্পেন দলে শুধু ও একা নয়, আরও দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। তবে আমাদের কাছেও ওদের বধ করার মতো নিজস্ব সব মারাত্মক অস্ত্র তৈরি আছে।

ইয়ামালকে বৈশ্বিক সুপারস্টার আখ্যা দিয়ে আর্জেন্টাইন কাপ্তান বলেন, ও এক অসাধারণ খেলোয়াড়, বিশ্ব মঞ্চের নতুন তারকা। মাত্র ১৯ বছর বয়স ওর, সামনে পড়ে আছে গোটা ক্যারিয়ার। আমি ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি, তবে এবার ও যাতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারে, তার জন্য আমরা মাঠে আমাদের জানপ্রাণ লড়িয়ে দেব।

Messi-Yamal 02
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, স্প্যানিশ আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্টের ক্যামেরায় তোলা সেই আইকনিক ছবিটি ছিল স্পোর্টস নিউজপেপার ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ। বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে তোলা সেই ছবিতে ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি পরম যত্নে একটি প্লাস্টিকের টবে এক শিশুকে গোসল করাচ্ছিলেন।

নিয়তির কী অদ্ভুত খেলা, বার্সেলোনার সেই লা মাসিয়া একাডেমি থেকেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে উদয় ঘটল এই লামিন ইয়ামালের, আর আজ সে বিশ্বজয়ের পথে খোদ মেসির মুকুট কেড়ে নেয়ার প্রধান হুমকি! মেটলাইফে ফুটবল ঈশ্বরের আশীর্বাদপুষ্ট গুরু বনাম শিষ্যের এই রূপকথার লড়াই যে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং রসালো এক অধ্যায় হয়ে থাকবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!