প্রতিপক্ষকে সতর্ক করলেন স্প্যানিশ দলপতি রদ্রি!

স্পেন ফুটবল দলের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোটা এখনও বেশ নতুন একটা অনুভূতি, কারণ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে তারা এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের শেষ লড়াইয়ে পা রেখেছে। তবে দলটির অধিনায়ক রদ্রি একে শুধুই কোনো অঘটন মনে করছেন না, বরং তাঁর মতে এটি বিগত পাঁচ বছর ধরে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা এক অপরাজেয় শক্তির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

২০২৩ সালের নেশনস লিগ এবং ২০২৪ সালের ইউরো জয় স্প্যানিশ আর্মাডাদের আত্মবিশ্বাসের এমন এক ভিত গড়ে দিয়েছে, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা এবার বিশ্বকাপ মাতাচ্ছে। তবে, রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আসল যুদ্ধ নামার আগে রদ্রি তাঁর সতীর্থদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, হারার ভয় ভুলে আমাদের জেতার জন্য ক্ষুধার্ত হতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স এককথায় অবিশ্বাস্য। প্রথম সাত ম্যাচে তারা গোল খেয়েছে মাত্র একটি! সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে ওড়ানোর পাশাপাশি প্রথম ম্যাচের সেই ধাক্কা দেয়া ড্রয়ের পর থেকে প্রতিপক্ষদের জালে তারা গোল দিয়েছে ১৩টি, আর নিজেরা খেয়েছে ১টি।

শেষ ষোলোতে পর্তুগাল এবং কোয়ার্টারে বেলজিয়ামকে বিদায় করার নেপথ্যে ছিলেন মিকেল মেরিনো, আর গোলপোস্টের নিচে ৯টি অতিমানবীয় সেভ করে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন উনাই সিমন।

তবে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ী রদ্রি স্পেনের ফুটবলকে শুধু একটা নির্দিষ্ট ‘ব্র্যান্ড’ বা টিকিটাকার ফ্রেমে বন্দি করতে রাজি নন। ৩০ বছর বয়সী এই মাঝমাঠের জেনারেল বলেন, সব ম্যাচে আপনারা একই স্পেনকে দেখেননি। রোববারের ম্যাচটি অনেক বেশি ফিজিক্যাল (শারীরিক শক্তি-নির্ভর) হবে। আমাদের এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো স্টাইলে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারি, তা সে রক্ষণভাগ সামলানো হোক, কাউন্টার অ্যাটাক হোক কিংবা অল-আউট আক্রমণ! ১৬ বছর আগে ২০১০ সালে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা মানলেও, রদ্রি মনে করেন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিততে হলে ফ্রান্স ম্যাচের চেয়েও নিজেদের এক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে হবে।

এদিকে, অনুশীলন সেশনে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের বাঁ উরুতে ব্যান্ডেজ জড়ানো দেখে স্প্যানিশ শিবিরে উদ্বেগের কালো মেঘ জমেছিল। তবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেই ভয় উড়িয়ে দিয়ে সোজা জানিয়েছেন, ফ্রান্স ম্যাচে চোট পেলেও ইয়ামাল এখন পুরোপুরি ফিট এবং খেলার জন্য শতভাগ প্রস্তুত। ২০০৭ সালে শিশু বয়সে লিওনেল মেসির কোলে পোজ দেয়া ইয়ামালকে অনেকেই ফুটবল ঈশ্বরের যোগ্য উত্তরসূরি ভাবছেন। এই ফাইনালকে ‘ব্যাটন বদল’ বা রাজত্ব হস্তান্তরের মঞ্চ বলা হলেও, কোচ চান না ইয়ামাল এসব নিয়ে মাথা ঘামাক। স্কালোনি-গুরু বলেন, মেসি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র জাদুকর। তবে লামিনকে লামিন ইয়ামালই হতে হবে, কারো ছায়া হওয়া যাবে না।”

 মাঠের লড়াই, কানাডার দাবানলের ধোঁয়াশা কিংবা নিউ জার্সির বাজে পিচ, কোনো কিছুই স্প্যানিশ কোচকে বিন্দুমাত্র নার্ভাস করতে পারছে না। তবে মিডিয়ার খাতিরে নিউ ইয়র্কে এসে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে নিউ জার্সিতে ফেরার কথা উঠতেই হালকা রসিকতার ছলে নিজের আসল ভয়ের কথা ফাঁস করলেন দে লা ফুয়েন্তে, আমি আসলে হেলিকপ্টারে ফিরতে মারাত্মক ভয় পাচ্ছি! আমরা হেলিকপ্টারে এসেছি এবং ওটাতেই ফিরতে হবে ভেবেই আমার বুক কাঁপছে। এছাড়া ফুটবল নিয়ে আমি একদম শান্ত, আমি কেবল রোববারের এই অবিশ্বাস্য মুহূর্তটি উপভোগ করতে চাই!