বয়স ৫৯? যেখানে সাধারণ মানুষ অবসরের পর নাতি-নাতনি নিয়ে নাতিদীর্ঘ গল্প ফাঁদেন বা আরামকেদারায় দিন কাটান, সেখানে তিনি বুট পায়ে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াচ্ছেন!
বলা হচ্ছে জাপানি ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি কাজুয়োশি মিউরার কথা। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বয়স্ক এই পেশাদার ফুটবলার, যাকে ভক্তরা ভালোবেসে ডাকেন ‘কিং কাজু’ প্রমাণ করে দিলেন, তাঁর রক্তে খেলা ফুটবলের নেশার কাছে বয়স নিতান্তই এক খেলনা!
শনিবার এম্পারর কাপের ম্যাচে চতুর্থ বিভাগের দল ইওয়াকি সুরুকাওয়াকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে মিউরার দল ফুকুশিমা ইউনাইটেড। আর এই ঐতিহাসিক গোলবন্যার ম্যাচে আসল রোমাঞ্চটা ছড়িয়েছেন খোদ কাযু!
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে তাঁর নিশানাভেদী শটে বল জালে জড়াতেই মাঠে আর রিজার্ভ বেঞ্চে শুরু হয়ে যায় বাঁধভাঙা উল্লাস। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখালেন, তা দেখার মতো! গোল করার ঠিক তিন মিনিট পর অবশ্য রাজকীয় ভঙ্গিতেই মাঠ ছাড়েন এই প্রবীণ স্ট্রাইকার।
২০২২ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল পেলেন ‘কিং কাজু’। এই এক গোল দিয়েই যেন তিনি জানান দিলেন, ধার কমেনি, ধারালো তরবারি এখনও আগের মতোই ধারালো
জাপানের সাবেক এই আন্তর্জাতিক তারকা এখন ফুটবল ক্যারিয়ারের অবিশ্বাস্য ৪২তম মৌসুমে পা রাখার জন্য কোমর বাঁধছেন। ফুকুশিমা ইউনাইটেডের সাথে তাঁর ধারে খেলার মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি।
আগামীতে জাপানের পেশাদার লিগের সময়সূচি পরিবর্তিত হয়ে শরৎ-থেকে-বসন্তের ক্যালেন্ডারে প্রবেশ করবে, যার মানে দাঁড়ায়- ৬০ বছরে পা দিয়েও পুরো পেশাদার ফুটবল খেলে যাবেন এই মহাতারকা!
মিউরা আগে বহুবার হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ৬০ বছর ছোঁয়ার আগে বুটজোড়া তোলা তো দূরের কথা, অবসরের কথা ভাববেনও না। ফুটবলের প্রতি এমন অলৌকিক ভালোবাসা আর অবিশ্বাস্য ফিটনেস দিয়ে জাপান থেকে বিশ্বমঞ্চে ভক্তদের উন্মাদনার জোয়ারে ভাসিয়ে চলছেন চিরসবুজ এই ‘কিং কাজু’!
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা