২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হেরে নীল-সাদা স্বপ্ন চুরমার হওয়ার যন্ত্রণা তখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পুরো আর্জেন্টিনাকে। অথচ সেই ট্র্যাজেডির আড়ালেই, ক্যামেরার চোখ আর স্পটলাইটের ঝলকানির বাইরে রচিত হয়েছিল অনন্য এক মানবিক গল্প!
পরাজিত নায়ক লিওনেল মেসি মাঠের লড়াইয়ে হয়তো হেরেছেন, কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয় জিতে নেওয়ার খেলায় যে তিনি এখনও সবার ওপরে, তা আবারও প্রমাণ হয়ে গেল।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের এক বিস্ফোরক তথ্যে ফাঁস হয়েছে এই চরম গোপনীয় ঘটনা। শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে প্রায় ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছিল আফ্রিকা মহাদেশের রূপকথার দল কেপ ভার্দে।

আর সেই ম্যাচের মূল নায়ক- ৪০ বছর বয়সী অতিমানবীয় গোলরক্ষক ‘ভোজিনহা’। আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে মেসিদের প্রায় টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিচ্ছিলেন তিনি! যদিও শেষমেশ অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় কেপ ভার্দি, তবে ভোজিনহার সেই উন্মাদের মতো সেভগুলো মেসির মনে গভীর দাগ কেটে যায়।
গল্পের ক্লাইম্যাক্স এখানেই! কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষকের পরিবারের চারজন সদস্য আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ অর্থাৎ ফাইনাল ম্যাচটির টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। খবরটি মেসির কানে পৌঁছানো মাত্রই কোনো রকম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই তিনি নিজস্ব প্রতিনিধি পাঠিয়ে চারজন আত্মীয়ের টিকিট বিনামূল্যে ব্যবস্থা করে দেন, যাতে তারা ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে বসে ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন!
টিভির পর্দায় কিংবা কোনো ম্যাচ রিপোর্টে এই দৃশ্য দেখায়নি কেউ। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসতেই আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে বইছে ধন্য ধন্য রব। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে হয়তো ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরা হয়নি, কিন্তু মাঠের পরম শত্রুর প্রতি মেসির এই রাজকীয় সম্মান আর হৃদয়ের উদারতা প্রমাণ করল—খেলার মাঠের লড়াই ৯০ মিনিটের হতে পারে, কিন্তু শ্রদ্ধাবোধ আর মানবতা থেকে যায় আজীবন!
তথ্যসূত্র: টেপমেড
