মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সাফল্য, অর্থ আর খ্যাতি যেন ঝরে পড়ছে বার্সেলোনার স্প্যানিশ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালের ঝুলিতে! ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের পর ঊনিশে পা দেয়া এই তারকা ফুটবলার এবার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছেন এক অবিশ্বাস্য বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ কিনে।
বার্সেলোনার অন্যতম আলোচিত তারকা দম্পতি কোলম্বিয়ান পপ রানি শাকিরা এবং কিংবদন্তি ফুটবলার জেরার্ড পিকের সেই বহুল আলোচিত ১০ মিলিয়ন ইউরোরও (১৩৮ কোটি টাকার বেশি) বেশি মূল্যের রাজপ্রাসাদটি এখন ইয়ামালের ব্যক্তিগত আবাসন!
স্প্যানিশ প্রভাবশালী ক্রীড়াদৈনিক ‘স্পোর্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এত অল্প বয়সে বিশ্বজয়ী ফুটবলারদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ইয়ামাল তাঁর এই স্বপ্নের রাজপ্রাসাদে রাজকীয় জীবনযাপন শুরু করেছেন।
বার্সেলোনার 'এসপ্লুগেস দে ইয়োব্রেগাত'-এর এক্সক্লুসিভ 'সিউদাদ ডায়াগোনাল' আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই তিন তলা এবং ভূগর্ভস্থ দুই তলা বিশিষ্ট প্রাসাদটি যেন এক বিনোদনের রাজ্য! স্থাপত্যশিল্পী মিরিয়া আদমেতলারের ২০১২ সালে ডিজাইন করা এই প্রাসাদটি ৩,৮০০ বর্গমিটারেরও বেশি স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
প্রাসাদটির প্রধান প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, এটির পাশে মনোরম কৃত্রিম জলপ্রপাতসহ খোলা সাঁতার কাটার পুল এবং আরেকটি ইনডোর সুইমিং পুল। নিজস্ব ফুটবল পিচ বা মিনি স্টেডিয়াম এবং একটি প্যাডেল কোর্ট। প্রাইভেট সিনেমা হল, পার্সোনাল জিমনেসিয়াম ও ওয়াইন সেলার। আর, গান ভালোবাসেন বলেই হয়তো প্রাসাদে রয়ে গেছে শাকিরার সেই বিখ্যাত সাউন্ডপ্রুফ রেকর্ড স্টুডিও!
ইয়ামাল প্রাসাদটি কেনার পর শাকিরার উজ্জ্বল ও আধুনিক ইন্টেরিয়র বজায় রাখলেও নিজের ব্যক্তিগত ছোঁয়া যোগ করেছেন। ছোট ক্যারিয়ারেই জেতা অজস্র ট্রফি, স্মারক ও পদক দিয়ে সাজিয়েছেন ঘরগুলো। পুরো চত্বরে মোট চারটি স্বতন্ত্র বাড়ি রয়েছে, একটি পিকের বাবা-মায়ের, একটি শাকিরার বাবা-মায়ের, আর সবচেয়ে বড় প্রধান বাড়িটিতে এখন থাকছেন ইয়ামাল।
চতুর্থ বাড়িটিতে এখনও সংস্কার কাজ চলছে। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই প্রাসাদের বেলকনি থেকে গোটা বার্সেলোনা শহর ও ভূমধ্যসাগরের মনোরম দৃশ্য সরাসরি দেখা যায়।
ইয়ামাল যখন এই বাড়িটি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর! শাকিরা এবং পিকের স্মৃতিবিজড়িত এই বিখ্যাত প্রাসাদটি হাতবদলের জন্য আইনজীবীদের মাধ্যমে টানা তিন মাস ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দরকষাকষি চলে। তবে কেনাবেচার পুরোটাই হয়েছে সাবেক মালিকদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের আইনি টিমের মাধ্যমে।
মাতারো শহরের রকাফোন্দা এলাকার সাধারণ গলি থেকে শুরু করে ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার সিনিয়র টিমে অভিষেক, স্পেন জাতীয় দলের কনিষ্ঠতম গোলদাতা এবং অবশেষে তিন-তিনটি লিগ শিরোপা, ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়, ইয়ামালের এই উল্কাগতির উত্থান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক রূপকথা। আর সেই রূপকথার নায়ক এখন রাজত্ব করছেন ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত ও আলোচিত প্রাসাদে!
তথ্যসূত্র: গোল ডটকম